নারীপ্রধান সিনেমার ভবিষ্যৎ: স্রেফ প্রশংসা নাকি প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিতি?
হিন্দি সিনেমায় নারীপ্রধান ও বলিষ্ঠ গল্পের জয়গান সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখর হলেও বাস্তব চিত্রটা বেশ হতাশাজনক। দর্শক ও সমালোচকরা ইন্টারনেটে ‘মর্দানি ৩’ বা ‘হক’-এর মতো ছবির প্রশংসা করলেও টিকিট কাউন্টারে তার প্রতিফলন ঘটছে না। ফলে সাহসী নারী চরিত্র সংবলিত চলচ্চিত্রগুলো শৈল্পিক স্বীকৃতি পেলেও ব্যবসায়িক দিক থেকে পিছিয়ে থাকছে, যা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিনেত্রী তাপসী পান্নু ও পরিচালক অনুভব সিনহার ‘অসি’র মতো সিনেমাগুলো সমাজের রূঢ় বাস্তব ও যৌন হিংসার ব্যবচ্ছেদ ঘটালেও দর্শক সমাগম আশানুরূপ নয়। বড় বাজেটের পুরুষতান্ত্রিক অ্যাকশনধর্মী সিনেমার জন্য দর্শক লাইন দিলেও নারীপ্রধান গল্পের ক্ষেত্রে এক ধরনের অনীহা কাজ করছে। কেবল ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির অপেক্ষায় না থেকে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবি দেখার মানসিকতা তৈরি হওয়া প্রয়োজন।
পরিশেষে, সিনেমার সার্থকতা কেবল লম্বা ফেসবুক পোস্টে নয়, বরং টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যানেই নির্ধারিত হয়। লিঙ্গসাম্য ও রুচিশীল গল্পের চর্চা বজায় রাখতে হলে দর্শকদের কেবল ভার্চুয়াল সমর্থন দিলেই চলবে না, সরাসরি প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত হতে হবে। শিল্পের এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দর্শকদের সস্তা হাততালির ঊর্ধ্বে উঠে সাহসী গল্পের প্রকৃত অংশীদার হতে হবে।

