নিখোঁজ হওয়ার পর মামাবাড়ির কাছেই মিলল কিশোরের ঝুলন্ত দেহ! প্রেম না কি অন্য কোনো রহস্য? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিজস্ব সংবাদদাতা, বড়ঞা: মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় এক কিশোরের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মামাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করা ওই কিশোরের দেহ উদ্ধার হয়েছে বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে একটি গাছ থেকে। এই ঘটনাটি স্রেফ আত্মহত্যা নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
মৃত কিশোরের নাম বিষ্ণু ভল্লা (১৭)। সে আদতে নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও বড়ঞার মান্থারায় মামাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। পরিবার সূত্রে খবর, গত সোমবার হঠাৎই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় বিষ্ণু। তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে সে বাড়িতে ফিরে আসে। তবে ফেরার পর থেকেই সে ভীষণ বিমর্ষ ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সে আবারও নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের লোকজন হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে রাত ১টা নাগাদ মামাবাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে একটি গাছে তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়।
প্রেমের টানাপড়েন না কি খুন?
বিষ্ণুর বাবা ও জামাইবাবুর দাবি, পাশের গ্রামের এক নাবালিকার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক নিয়ে চলা টানাপড়েনের জেরেই হয়তো এই মর্মান্তিক পরিণতি। তবে এটি আত্মহত্যা না কি তাকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য। ঘটনার খবর পেয়েই বড়ঞা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে।
তদন্তে পুলিশ
পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এক কিশোরের এমন অকাল মৃত্যুতে মান্থারা গ্রামে এখন শোকের ছায়া।

