নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে মম-অভিষেকের দ্বিমুখী কৌশল: উত্তর ও দক্ষিণে তুঙ্গে প্রচার – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে প্রচারের পারদ চড়াচ্ছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার রাজ্যের দুই প্রান্ত থেকে সমান্তরালভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করছেন। আগামী ২৪ মার্চ উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, মাটিগাড়া ও ময়নাগুড়িতে জনসভার মাধ্যমে প্রচারের সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের পাথরপ্রতিমা ও নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে প্রচারের দায়িত্ব সামলাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই দ্বিমুখী কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো সংগঠনকে চাঙ্গা করা এবং কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা বাড়িয়ে বিরোধীদের কড়া টক্কর দেওয়া।
একই সময়ে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ৬০.০৬ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই প্রক্রিয়া আসাম্পূর্ণ থাকায় তাঁদের ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলায়, যেখানে যথাক্রমে ১১.০১ লক্ষ এবং ৮.২৮ লক্ষ ভোটার এই তালিকায় রয়েছেন। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর দিনাজপুরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। কমিশন জানিয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ভোটারদের অবস্থান চূড়ান্ত নয়, তবে কোনো যোগ্য ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী ও সংখ্যালঘু-প্রধান জেলাগুলোতে ভোটার তালিকার এই যাচাই প্রক্রিয়া নির্বাচনী সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যখন কমিশন আগামীকাল প্রথম পরিপূরক তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘর গোছাতে মরিয়া। সোনারপুর দক্ষিণের মতো হাইভোল্টেজ কেন্দ্রগুলোতেও লড়াইয়ের প্রস্তুতি তুঙ্গে। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকার প্রশাসনিক জটিলতা এবং শাসকদলের জোরালো প্রচার কৌশল—এই দুইয়ের আবহে রাজ্যের নির্বাচনী পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

