নোয়াপাড়ায় তৃণমূলের অন্তর্কলহ ও দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ তৃণাঙ্কুর: অর্জুনের নিশানায় কি পাল্টাবে সমীকরণ? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও দুর্নীতির অভিযোগ। দীর্ঘদিনের বিধায়িকা মঞ্জু বসুর বদলে ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করায় তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ চরমে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং সরব হয়েছেন তৃণাঙ্কুরের বিরুদ্ধে ওঠা জিটিএ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে। প্রবীণ নেত্রী মঞ্জু বসুর প্রতি ‘আসাম্মান’-এর ইস্যুটি স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আবেগপ্রবণ প্রভাব ফেলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মঞ্জু বসুর অনুগামীদের একাংশ যদি ক্ষোভে ভোটদান থেকে বিরত থাকেন বা বিজেপির দিকে ঝোঁকেন, তবে তৃণমূলের ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভোট সরাসরি পদ্ম শিবিরে যেতে পারে। অর্জুন সিংয়ের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রার্থীকে মানুষ গ্রহণ করবে না। উল্লেখ্য, ২০২১-এর নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের বড় ব্যবধানে জয় থাকলেও, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে অর্জুন সিংয়ের ব্যক্তিগত প্রভাব ও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি ছিল নজরকাড়া।
বর্তমানে নোয়াপাড়ার জনমত নবীন বনাম প্রবীণের দ্বন্দ্বে দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে তরুণ মুখ তৃণাঙ্কুরের মাধ্যমে দলের নবীনত্বের দাবি, অন্যদিকে অভিজ্ঞ নেত্রীর প্রতি হওয়া অপমানের প্রতিবাদ। দুর্নীতির দাগ গায়ে নিয়ে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারেন এবং অর্জুনের আক্রমণাত্মক মেজাজ বিজেপির পালে হাওয়া কাড়তে পারে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে আগামী ৪ ঠা মে।

