পরকীয়ার কাঁটা সরাতে স্বামীকে নৃশংস খুন, মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে কুপিয়ে মারল স্ত্রী ও শ্যালক! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
প্রকাশম: সতেরো বছরের দীর্ঘ দাম্পত্যও হার মানল বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কাছে। পরকীয়ার পথে বাধা হওয়ায় নিজের স্বামীকে অত্যন্ত বীভৎসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল এক গৃহবধূ ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলার পেদ্দারারভিডু মণ্ডলে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতের নাম লালু শ্রীনু (৩৮), যিনি পেশায় একজন লরি চালক ছিলেন।
ঘটনার নেপথ্যে পরকীয়া ও জেল-হুমকি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্রীনুর স্ত্রী ঝাঁসি সুন্নি পেন্টার সঙ্গে তাঁরই ভাইয়ের বন্ধু সূর্যনারায়ণের অবৈধ প্রেম চলছিল। মাদক পাচারের অভিযোগে শ্রীনু যখন জেলে ছিলেন, তখনই তিনি স্ত্রীর এই সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। রাগে ফেটে পড়ে তিনি জেল থেকেই স্ত্রী ও শ্যালককে হুমকি দেন যে, জামিনে মুক্তি পেয়েই তিনি তাঁদের দুজনকে প্রাণে মেরে ফেলবেন। স্বামীর এই হুমকিতেই ভয় পেয়ে পালটা খুনের ছক কষেন ঝাঁসি ও তাঁর ভাই।
২ লক্ষ টাকায় খুনি ভাড়া
নিজেদের পথ পরিষ্কার করতে তাঁরা গুন্টুরের চারজন দুষ্কৃতীর সঙ্গে ২ লক্ষ টাকার সুপারি চুক্তি করেন। শ্রীনু জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরার পথেই তাঁকে শেষ করে দেওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়। ওঙ্গোল থেকে ফেরার পথে দুবার খুনের চেষ্টা ব্যর্থ হলেও তৃতীয়বার ঘাতকরা সফল হয়।
চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে আক্রমণ
ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে শ্রীনু যখন নিচে নামেন, ঠিক তখনই পিছন থেকে ধাওয়া করা সূর্যনারায়ণ ও তাঁর সহযোগীরা শ্রীনুর চোখে মরিচের গুঁড়ো ছিটিয়ে দেন। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা শ্রীনুকে তাঁর নিজের স্ত্রী ও শ্যালক মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই লরি চালকের।
পুলিশি তৎপরতায় ফাঁস রহস্য
তদন্তে বিভ্রান্তি ছড়াতে অভিযুক্তরা প্রথমে সাজানো গল্প বললেও পুলিশের জেরা ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে আসল সত্য প্রকাশ্যে আসে। ডিএসপি নাগরাজু জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত স্ত্রী ও শ্যালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি চার ভাড়াটে খুনিকে ধরতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তাদের আদালতে পেশ করা হবে।

