পরকীয়ার নৃশংস পরিণতি: যৌনাঙ্গ কেটে যুবককে গাছে ঝোলাল প্রেমিকা ও তার পরিবার, ৪ জনের যাবজ্জীবন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিহারের রোহতাস জেলায় সাড়ে ছয় বছর আগে ঘটে যাওয়া এক পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঐতিহাসিক রায় দিল আদালত। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে যুবক মান্নু কুমারকে নৃশংসভাবে খুন করার অপরাধে প্রেমিকা, তার স্বামী, বাবা এবং ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন জেলা জজ অনিল কুমার। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ‘অনার কিলিং’ বা সম্পর্কের নামে এই ধরণের বর্বরতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
২০১৯-এর সেই শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ড
ঘটনাটি ২০১৯ সালের মার্চ মাসের। ভগবানপুর গ্রামের বাসিন্দা মান্নু কুমারের সঙ্গে ওই গ্রামেরই সুমন দেবীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি সুমনের পরিবার। ষড়যন্ত্র করে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় মান্নুকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার পর অমানবিক নিষ্ঠুরতার সীমা ছাড়িয়ে যায় অভিযুক্তরা। মান্নুর পেট চিরে এবং যৌনাঙ্গ কেটে ফেলার পর দেহটি একটি সরিষা ক্ষেতের গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও খুনের নীল নকশা
তদন্তে উঠে আসে, হত্যার মাত্র দুদিন আগে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে স্বামী প্রভাকর সিংকে নিয়ে বাপের বাড়ি ফেরেন সুমন দেবী। ৪ মার্চ সন্ধ্যায় সুমন নিজেই ফোন করে মান্নুকে দেখা করতে ডাকেন। প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে বাড়ি থেকে বেরোনোর পর আর ফেরেননি মান্নু। পরদিন ৫ মার্চ সকালে তার বিকৃত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আদালতের রায় ও সাজা
মৃতের বাবা অশোক চৌধুরীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অনিল কুমার সিং আদালতে ৯ জন সাক্ষীর বয়ান এবং ফরেনসিক রিপোর্ট পেশ করেন। বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত নিম্নলিখিত চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫,০০০ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেয়:
- সুমন দেবী (মান্নুর প্রেমিকা)
- প্রভাকর সিং (সুমনের স্বামী)
- দুধেশ্বর চৌধুরী (সুমনের বাবা)
- ফুলচাঁদ (সুমনের ভাই)
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, তথাকথিত ‘পারিবারিক সম্মান’ রক্ষার নামে এই ধরণের মধ্যযুগীয় বর্বরতা আধুনিক সমাজে অপরাধ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে মান্নুর পরিবার।

