লেটেস্ট নিউজ

‘পরমাণু অস্ত্রই নিরাপত্তার গ্যারান্টি’, পুতিন ঘনিষ্ঠ নেতার বয়ানে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: রাশিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে রাশিয়ান সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভের একটি বয়ান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অস্থিরতার মধ্যেই পরমাণু অস্ত্র নিয়ে এই বিতর্কিত মন্তব্য করলেন তিনি।

মেদভেদেভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়া তার পরমাণু অস্ত্রের জোরেই সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেছে। আমেরিকা ও ইউরোপের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক আচরণের অভিযোগ এনে তিনি পরমাণু অস্ত্রকে জাতীয় নিরাপত্তার ‘একমাত্র নিশ্চিত গ্যারান্টি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পরমাণু অস্ত্র নিয়ে কী বললেন মেদভেদেভ?

রুশ সংবাদপত্র Kommersant-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, বিশ্বে যে ধরনের অস্থির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, তা অনেক দেশকে পরমাণু অস্ত্রের দৌড়ে শামিল হতে উৎসাহিত করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন:

“বিশ্বে বর্তমানে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে অন্য অনেক দেশ পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমে পড়বে।”

পরমাণু অস্ত্রই নিরাপত্তার চাবিকাঠি

মেদভেদেভের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মারণাস্ত্রই জাতীয় নিরাপত্তার একমাত্র ठोस গ্যারান্টি। তিনি বলেন:

“অনেক দেশের কাছেই মিলিটারি প্রোগ্রাম চালানোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে, আবার কিছু দেশ এই ক্ষেত্রে গবেষণা চালাচ্ছে।”

তিনি স্বীকার করেছেন যে এই পরিস্থিতি মানবতার জন্য ভালো নয়, তবে এটাই বর্তমান বাস্তবতা।

জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর জোর

মেদভেদেভ বলেন, “হয়তো এটি মানবতার স্বার্থে নয়, কিন্তু সত্য এটাই যে মানুষ এখনও পর্যন্ত নিজের রক্ষা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার জন্য পরমাণু অস্ত্রের বিকল্প কোনো পথ খুঁজে পায়নি।” তার এই বক্তব্যকে বিশ্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি এক কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

START চুক্তি নিয়ে রাশিয়ার অবস্থান

পরমাণু অস্ত্র হ্রাসের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত ‘নিউ START’ (New START) চুক্তি নিয়েও কথা বলেছেন মেদভেদেভ। তিনি জানান, রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রস্তাবে ওয়াশিংটন এখনও কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

আমেরিকার হাতে সময় কম

রাশিয়ার এই শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকের মতে, ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমেরিকার হাতে সময় রয়েছে এই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আগামী দিনগুলোতে এই ইস্যুটি বিশ্ব রাজনীতিতে আরও নাটকীয় মোড় নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *