পরমাণু অস্ত্র নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে বেনজির সংঘাত, মুখোমুখি আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু নিয়ে। ইরান এবং আমেরিকা-ইজরায়েল সরাসরি বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রপুঞ্জ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন যে, এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
বৈঠকের মূল পয়েন্টগুলো একনজরে
- আমেরিকার কড়া হুঁশিয়ারি: মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ সাফ জানিয়েছেন, ইরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। আমেরিকার হামলাকে ‘বৈধ’ বলে দাবি করে তিনি একে বিশ্ব নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
- ইজরায়েলের অবস্থান: ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জানান, কট্টরপন্থী কোনো শাসনব্যবস্থাকে ব্যালিস্টিক মিসাইল বা পরমাণু অস্ত্র নিয়ে বিশ্বকে হুমকি দিতে দেওয়া হবে না। আত্মরক্ষার খাতিরেই তারা এই বিমান হামলা চালিয়েছে।
- ইরানের পাল্টা তোপ: ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই হামলায় শত শত সাধারণ ইরানি নাগরিক হতাহত হয়েছেন। নিরাপত্তা পরিষদ কেন আগে থেকে আমেরিকার উস্কানিমূলক বার্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
- রাষ্ট্রপুঞ্জ প্রধানের নিন্দা: গুতেরেস আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিমান হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি ইরানের পাল্টা হামলারও নিন্দা জানান এবং বাহরাইন, ইরাক, জর্ডন ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর জোর দেন।
বৈঠকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন, সেই প্রসঙ্গে ইরানি রাষ্ট্রদূত সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে রাষ্ট্রপুঞ্জ এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।

