লেটেস্ট নিউজ

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা, ভারতের তেলের বাজারে আগুন লাগার আশঙ্কা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ ভারতের অর্থনীতিতে বড়সড় ঝাপটা দিতে চলেছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হু-হু করে বাড়তে শুরু করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আপনার পকেটে। দেশের বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

তেলের বাজারে সংকটের সিঁদুরে মেঘ

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো, আমেরিকার কড়া হুঁশিয়ারির কারণে ভারত এখন চাইলেই রাশিয়ার থেকে সস্তায় তেল কিনতে পারবে না। বাণিজ্য চুক্তির শর্ত মেনে ভারতকে এখন বেশি দামে ‘ব্রেন্ট অয়েল’ কিনতে হচ্ছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের বাজারকে আরও অস্থির করে তুলবে।

চাবাহার বন্দর ও কৌশলগত ঝুঁকি

শুধু তেল নয়, ইরানের চাবাহার বন্দরে ভারতের কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। পাকিস্তানের গদর বন্দরের পালটা হিসেবে তৈরি এই কৌশলগত বন্দরটি ভারতের বাণিজ্যিক ও সামরিক স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের বিস্তার ঘটলে এই বিশাল বিনিয়োগ ধূলিসাৎ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মোদি সরকারকে কংগ্রেসের কড়া তোপ

ইরানের এই দুঃসময়ে ভারতের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। মোদি সরকারকে বিদ্ধ করে কংগ্রেস মনে করিয়ে দিয়েছে ১৯৯৪ সালের সেই ঐতিহাসিক ঘটনার কথা, যখন কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের সম্মান রক্ষায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল ইরান। তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী দীনেশ সিং অসুস্থ শরীর নিয়েও তেহরান গিয়ে ইরানের সাহায্য চেয়েছিলেন এবং ইরান সেই অনুরোধ রেখেছিল।

কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদি ইজরায়েল সফর সেরে ফেরার পরেই ইরানে আক্রমণ শুরু হয়েছে, যা ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুরাষ্ট্রের প্রতি এক প্রকার বিশ্বাসঘাতকতা। মোদি সরকারকে ‘ভীতু রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করে কংগ্রেস দাবি তুলেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের উচিত পুরনো বন্ধু ইরানের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়ানো।

যুদ্ধ পরিস্থিতি যত জটিল হচ্ছে, ততই সিরিয়া, কাতার, ইরাক ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের মিসাইল নিশানায় চলে আসছে। ফলে ভারত ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেকার এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *