লেটেস্ট নিউজ

পাকিস্তানের আজব ফতোয়া! সাংসদদের সম্পত্তির হিসেব আর জানবে না জনতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আর্থিক সংকটে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানে পাশ হল এক নজিরবিহীন বিতর্কিত বিল। এবার থেকে সে দেশের সাংসদ ও আইনপ্রণেতারা নিজেদের এবং পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ গোপন রাখতে পারবেন। বুধবার পাকিস্তানের সংসদে এই সংশোধনী বিলটি পাশ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। আন্তর্জাতিক মহলের প্রশ্ন, বিশ্বজুড়ে ঋণের জন্য হাহাকার করা একটি দেশের জনপ্রতিনিধিদের এমন কী ‘গুপ্তধন’ রয়েছে যা জনগণের আড়ালে রাখতে হচ্ছে?

নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে গোপনীয়তা

পাকিস্তানের বর্তমান নির্বাচনী আইন (ধারা ১৩৮) অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ সদস্য, সেনেট এবং প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিজেদের ও পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির খতিয়ান নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। কমিশন সেই তথ্য সরকারি গেজেটে প্রকাশ করে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। তবে নতুন বিলে এই ১৩৮ ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যদি কোনো সাংসদ মনে করেন তার সম্পত্তির তথ্য ফাঁস হলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, তবে তিনি তা গোপন রাখার আবেদন জানাতে পারবেন।

স্পিকারের হাতেই চূড়ান্ত ক্ষমতা

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, কোনো সাংসদের সম্পত্তি জনসমক্ষে আনা হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংসদের স্পিকার বা সেনেট চেয়ারম্যান। যদি তারা মনে করেন তথ্যের প্রকাশ সদস্য বা তার পরিবারের জীবনের জন্য ঝুঁকি হতে পারে, তবে এক বছরের জন্য সেই গোপনীয়তা বজায় রাখা যাবে। যদিও সাংসদকে গোপনে নির্বাচন কমিশনের কাছে সমস্ত নথিপত্র জমা করতে হবে, কিন্তু সাধারণ মানুষ বা সংবাদমাধ্যম তা জানতে পারবে না।

‘কাঙাল’ দেশে ফুলেফেঁপে উঠছেন সাংসদরা?

পাকিস্তানের অর্থনীতি যখন খাদের কিনারে, তখন সাংসদদের এমন রক্ষাকবচ দেওয়া নিয়ে কটাক্ষ করছে বিরোধীরা। সমালোচকদের দাবি, সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের আখের গোছাতেই এই বিল পাশ করিয়েছে শাসকদল। সাংসদদের ব্যক্তিগত সম্পদ কি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে? সেই অস্বস্তি আড়াল করতেই কি ‘নিরাপত্তার দোহাই’ দিয়ে এই গোপনীয়তার মোড়ক? প্রশ্ন উঠছে বিশ্বমঞ্চে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *