পাখিপ্রেমীদের কাছে স্বর্গ দার্জিলিঙের কাছে এই অভয়ারণ্য, রয়েছে হিংস্র জন্তুও, যাবেন নাকি রামপুরিয়া? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দার্জিলিংয়ের কোলাহল ছেড়ে একটু নিরিবিলিতে পাহাড় আর জঙ্গলের স্বাদ পেতে চান? তবে আপনার পরবর্তী গন্তব্য হতে পারে সেঞ্চল অভয়ারণ্যের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক মায়াবী গ্রাম ‘রামপুরিয়া’। প্রকৃতিপ্রেমী থেকে শুরু করে বার্ড ওয়াচার—সবার জন্যই এটি এখন উত্তরবঙ্গের নতুন হটস্পট।
কেন যাবেন রামপুরিয়া?
দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ২০ কিমি দূরে অবস্থিত এই গ্রামটি যেন সবুজের চাদরে মোড়া এক স্বর্গরাজ্য। এখানে মিলবে:
- কাঞ্চনজঙ্ঘার ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ: আকাশ পরিষ্কার থাকলে নিজের ঘর থেকেই উপভোগ করা যায় তুষারশুভ্র হিমালয়ের রূপ।
- অরণ্যের রোমাঞ্চ: ১৯১৫ সালে তৈরি ভারতের অন্যতম প্রাচীন সেঞ্চল অভয়ারণ্যের অংশ এই এলাকা। এখানে দেখা মিলবে হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার, লেপার্ড, বার্কিং ডিয়ার এবং বুনো শুয়োরের।
- পাখিপ্রেমীদের স্বর্গ: ট্রিপাই, ম্যাগপাই থেকে শুরু করে নানা বিরল প্রজাতির হিমালয়ান পাখির কলতানে মুখর থাকে এই বন।
আশেপাশে দেখার জায়গা
রামপুরিয়াকে কেন্দ্র করে আপনি ঘুরে নিতে পারেন পাহাড়ি জনপদ মংপু। যেখানে রয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত মিউজিয়াম এবং কমলালেবুর বাগান। কাছেই রয়েছে রুংলি রুংলিওট চা বাগান, যা ব্রিটিশ আমলের আভিজাত্য বহন করছে। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়রা চাইলে পাহাড়ি পথে ট্রেক করে ঘুরে নিতে পারেন স্থানীয় জলপ্রপাত ও গুহা।
যাতায়াতের সুলুকসন্ধান
শিলিগুড়ি থেকে জোড়বাংলো হয়ে সিক্সথ মাইল ক্রসিং দিয়ে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় রামপুরিয়া। এটি টাইগার হিল থেকে মাত্র ১৮ কিমি এবং তিনচুলে থেকে মাত্র ৮ কিমি দূরে। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৭৯ কিমি।
ভ্রমণের সেরা সময়
এপ্রিল থেকে মে এবং অক্টোবর থেকে মার্চ মাস হলো রামপুরিয়া ভ্রমণের শ্রেষ্ঠ সময়। তবে বর্ষায় জঙ্গলের রূপ অন্য মাত্রা পায়। পাহাড়ের নিরিবিলি কোলে দু’দিন কাটাতে চাইলে আজই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন রামপুরিয়ার উদ্দেশ্যে।

