পার্ল হারবার আছড়ে পড়ল ইরানে! আমেরিকার বি২ স্টেলথ বম্বারের গর্জন, ২০০০ পাউন্ডের বোমায় ধ্বংস ইরানি নৌবাহিনী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার দাউদাউ করে জ্বলছে ইরান। ২০২৬ সালের ১ মার্চ ইতিহাসের পাতায় এক ভয়াবহ দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল। মার্কিন বিমানবাহিনীর বি২ স্পিরিট স্টেলথ বম্বারের বিধ্বংসী হামলায় কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে ইরানি নৌসেনার দম্ভ। আমেরিকার এই অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’র তীব্রতা এতটাই যে, সামরিক বিশেষজ্ঞরা একে ১৯৪১ সালের সেই কুখ্যাত ‘পার্ল হারবার’ হামলার পাল্টাপল্টি হিসেবে বর্ণনা করছেন।
সমুদ্রের অতলে ইরানি নৌবহর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্জনে জানিয়েছেন যে, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে আধিপত্য বিস্তারকারী ইরানি নৌবাহিনীর মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে আমেরিকা। এখন পর্যন্ত ইরানের মোট ৯টি বিশাল যুদ্ধজাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের গর্ব ‘জমরান ক্লাস করভেট’। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, “এখনও যা বেঁচে আছে, সেগুলোকে খুব শীঘ্রই সমুদ্রের তলায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে।” শুধু জাহাজই নয়, ইরানি নৌবাহিনীর সদর দফতরও এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
বি২ স্পিরিট বম্বারের মরণকামড়
মিসৌরি থেকে উড়ে আসা বিশ্বের সবথেকে অত্যাধুনিক এবং রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম বি২ স্পিরিট স্টেলথ বম্বার সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানের মাটির গভীরে থাকা ব্যালিস্টিক মিসাইল ঘাঁটিগুলোতে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নিশ্চিত করেছে যে, ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ধ্বংস করতে সক্ষম ২০০০ পাউন্ডের গাইডেড বোমা ব্যবহার করা হয়েছে এই অভিযানে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে হামলার পর এটিই দ্বিতীয়বার যখন আমেরিকা বি২ বম্বার ব্যবহার করল।
পাল্টা হামলার চেষ্টা এবং ব্যর্থতা
আমেরিকার এই অতর্কিত হামলায় দিশেহারা ইরান পাল্টাপাল্টি হিসেবে শত শত মিসাইল ছুঁড়েছে। তবে মার্কিন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের দুর্ভেদ্য প্রাচীর টপকাতে পারেনি ইরানের সেই প্রতিরোধ। অধিকাংশ মিসাইলই মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি। পারস্য উপসাগরের নীল জল এখন ইরানি ধ্বংসাবশেষের কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে।
অপারেশন এপিক ফিউরি এবং আগামী রণকৌশল
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, ইরানের মিসাইল ক্ষমতা এবং নৌবাহিনীর সক্ষমতা সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না। এক সময়ের অপরাজেয় ইরানি নৌবাহিনী এখন অস্তিত্ব সংকটে। আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, এর ফলে কি মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী মহাযুদ্ধের সূচনা হয়ে গেল? তবে আপাতত মার্কিন হুঙ্কার আর বি২ বম্বারের গর্জনে কোণঠাঁসা তেহরান।

