লেটেস্ট নিউজ

পুরণপোলি থেকে মালপোয়া, দোল উৎসবে ভারতের কোন রাজ্যে কী কী জিভে জল আনা পদ তৈরি হয় দেখুন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রঙের উৎসব দোল বা হোলি মানেই শুধু আবির খেলা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রসনাতৃপ্তির এক বিশাল আয়োজন। ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিতে প্রদেশভেদে পাল্টে যায় হোলির বিশেষ খাবারের তালিকা। পশ্চিমবঙ্গ থেকে মহারাষ্ট্র কিংবা বিহার থেকে কর্ণাটক— প্রতিটি রাজ্যের হেঁশেলে এই দিনটিতে তৈরি হয় ঐতিহ্যবাহী সব মিষ্টি ও সুস্বাদু পদ। আজকের প্রতিবেদনে দেখে নিন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে হোলি উদযাপনের কিছু সেরা খাবারের সম্ভার।

মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী পুরণপোলি

মহারাষ্ট্রে হোলি বা রঙপঞ্চমীর উৎসব আসাম্পূর্ণ থেকে যায় যদি পাতে গরম গরম পুরণপোলি না থাকে। এটি মূলত ডালের মিষ্টি পুর ভরা এক ধরণের পাতলা রুটি। সেদ্ধ করা ছোলার ডাল এবং গুড় দিয়ে তৈরি করা হয় বিশেষ ‘পুরণ’। ময়দা বা গমের লেচির ভেতর সেই পুর ভরে তা চাটুতে সেঁকে নেওয়া হয়। এর সঙ্গে পরিবেশন করা হয় ঝাল ঝাল ‘কাটাচি আমটি’ বা ডালের জল দিয়ে তৈরি বিশেষ তরকারি। অনেকে আবার দুধ বা গুড় দিয়ে তৈরি শরবতের সাথেও এটি তৃপ্তি করে খান।

বিহার ও মধ্যপ্রদেশের জনপ্রিয় মালপোয়া

হোলির উৎসবে উত্তর ও মধ্য ভারতে মালপোয়া অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে বিহার এবং মধ্যপ্রদেশে মালপোয়া ছাড়া উৎসবের আমেজই জমে না। ময়দা, দুধ এবং এলাচ দিয়ে তৈরি এই ব্যাটারকে ঘিয়ে ভেজে চিনির রসে ডুবিয়ে রাখা হয়। কামড় দিলেই নরম মালপোয়া মুখে মিলিয়ে যায়। মধ্যপ্রদেশের অনেক জায়গায় আবার রাবড়ির সাথে মালপোয়া পরিবেশন করা হয়, যা স্বাদে অনন্য। এছাড়া বিহারে হোলির সময় ‘আনারসা’ তৈরি করার চলও বেশ পুরনো।

গোয়ার বিশেষ মিষ্টি নেউরিওস

পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গোয়ায় হোলির সময় এক বিশেষ ধরণের মিষ্টি তৈরি হয়, যার নাম ‘নেউরিওস’ বা ‘নেভরিস’। দেখতে অনেকটা উত্তর ভারতের গুজিয়ার মতো হলেও এর স্বাদে আছে উপকূলীয় ছোঁয়া। ময়দার আবরণের ভেতরে নারকেল, গুড় এবং কাজু বাদামের পুর দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। গোয়ার ঐতিহ্যবাহী উৎসবে এটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

কর্ণাটকের হোলিগে বা ওবাত্তু

দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকেও হোলি উদযাপনে বিশেষ মিষ্টির চল রয়েছে। সেখানে একে বলা হয় ‘হোলিগে’ বা ‘ওবাত্তু’। অন্ধ্রপ্রদেশে এই একই পদ ‘বোবাটলু’ নামে পরিচিত। এটি অনেকটা মহারাষ্ট্রের পুরণপোলির সমগোত্রীয়। ছোলার ডাল এবং গুড়ের পুর ভরে তৈরি এই মিষ্টি রুটি দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারগুলোতে অত্যন্ত যত্ন সহকারে প্রস্তুত করা হয়।

হরিয়ানার চুরমা ও কেশর ভাত

হরিয়ানার হোলিতে গুজিয়ার পাশাপাশি দেখা মেলে ‘গুর কি গুলগুলে’ এবং ‘চুরমা’র। এছাড়া এখানে রঙের উৎসবে বিশেষ ভাবে ‘মিঠে চাওয়াল’ বা মিষ্টি ভাত তৈরি করা হয়, যাতে কেশরের ব্যবহার খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।

বাংলার দোল ও মিষ্টিমুখ

পশ্চিমবঙ্গে হোলিকে আমরা ‘দোল পূর্ণিমা’ বা ‘দোলযাত্রা’ হিসেবে পালন করি। বাংলার দোল উৎসবে দুধের তৈরি মিষ্টির প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি থাকে। বাড়িতে বাড়িতে তৈরি হয় মালপোয়া, তবে এর রেসিপি উত্তর ভারতের থেকে কিছুটা আলাদা। এছাড়া দোল উপলক্ষে নলেন গুড়ের সন্দেশ, ভাপা দই এবং রসগোল্লার মতো সাবেকি মিষ্টি ছাড়া উৎসবের আনন্দ অপূর্ণ থেকে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *