লেটেস্ট নিউজ

পৃথিবীতে ৯৫টি ধাতু থাকলেও সোনা ও রূপার দাম কেন আকাশছোঁয়া? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রকৃতিতে লোহা, তামা বা অ্যালুমিনিয়ামের মতো প্রায় ৯৫ ধরনের ধাতু থাকা সত্ত্বেও কেন মানুষ সোনা ও রূপার পেছনেই লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে? এর পেছনে কেবল জৌলুস নয়, কাজ করে নিরেট বিজ্ঞান ও অর্থনীতি।

দুষ্প্রাপ্যতা ও আভিজাত্য

লোহা বা অ্যালুমিনিয়াম পৃথিবীর উপরিভাগে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, তাই এগুলো সস্তা। কিন্তু সোনা ও রূপা অত্যন্ত দুর্লভ। বিজ্ঞানীদের মতে, সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত যত সোনা উত্তোলন করা হয়েছে, তা দিয়ে মাত্র তিনটি অলিম্পিক সাইজের সুইমিং পুল ভর্তি করা সম্ভব। এই সীমাবদ্ধতাই এর আভিজাত্য ও চড়া দামের মূল কারণ।

অক্ষয় উজ্জ্বলতা ও নোবল মেটাল

সোনা একটি ‘নোবল মেটাল’। লোহায় মরিচা ধরে বা তামা বিবর্ণ হয়ে যায়, কিন্তু সোনা বাতাস বা জলর সংস্পর্শে এলেও হাজার বছর ধরে একই রকম উজ্জ্বল থাকে। ৩০০০ বছর আগের মিশরের পিরামিড থেকে উদ্ধার হওয়া সোনা আজও নতুনের মতো চকচক করছে। এই স্থায়িত্বই একে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগে পরিণত করেছে।

মুদ্রা ও নিরাপদ সম্পদ

কাগজের নোট আসার আগে সোনা-রূপার মুদ্রাই ছিল বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম। আজও বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো (যেমন আরবিআই) নিজেদের ভাণ্ডারে বিপুল পরিমাণ সোনা মজুত রাখে। যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক মন্দার সময় যখন শেয়ার বাজার বা টাকার দাম পড়ে যায়, তখন সোনার দাম উল্টো বাড়ে। তাই একে বলা হয় ‘বিপদের বন্ধু’।

প্রযুক্তিতে অপরিহার্য ব্যবহার

বিলাসবহুল গয়না ছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তিতে এই ধাতুগুলোর চাহিদা ব্যাপক। রূপা হলো বিশ্বের সেরা বিদ্যুৎ পরিবাহী। আপনার হাতের স্মার্টফোন, সোলার প্যানেল থেকে শুরু করে স্যাটেলাইট পর্যন্ত সব হাই-টেক গ্যাজেটে সোনা ও রূপা ব্যবহৃত হয়। একদিকে খনি থেকে উত্তোলনের সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা—এই দুইয়ের ভারসাম্যই সোনা-রূপাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *