“প্যাডেড ইনার পরো”— অডিশনে এমন অপমানজনক পরামর্শ! মুখ খুলে চমকে দিলেন নীনা
প্রবীণ অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা সম্প্রতি তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারের নানা চড়াই-উতরাই ও তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। আর্থিক অনটনের কারণে একসময় নিজের বয়সের তুলনায় বেমানান চরিত্রে অভিনয় করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে, ১৯৯২ সালের ‘ইয়াল্গার’ ছবিতে নিজের চেয়ে ২৪ বছরের বড় ফিরোজ খানের বড় বোনের চরিত্রে অভিনয়ের বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন। নীনার মতে, বলিউডে পুরুষ ও নারী অভিনেতাদের ক্ষেত্রে বয়সের এই বৈষম্য মূলত সামাজিক মানসিকতারই প্রতিফলন।
কেরিয়ারের শুরুর দিকের এক অপ্রীতিকর ঘটনার স্মৃতিচারণ করে নীনা জানান, পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের একটি ছবির গানের শুটিং চলাকালীন তাঁকে ‘শারীরিক অবয়ব আকর্ষণীয়’ করতে প্যাডেড অন্তর্বাস পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় বিষয়টি অত্যন্ত অপমানজনক মনে হলেও, বর্তমানে তিনি একে পরিচালকের পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবেই দেখেন। এছাড়া টেলিভিশন ধারাবাহিক পরিচালনার ক্ষেত্রেও সামাজিক চাপের মুখে গল্পের নারীবাদী পরিণতি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, বিনোদন জগৎ মূলত সমাজের চাহিদা অনুযায়ী চলে। আজও সমাজ বয়স্ক পুরুষের সঙ্গে কম বয়সী নারীর সম্পর্ক মেনে নিলেও, উল্টোটা গ্রহণ করতে দ্বিধা বোধ করে। প্রযোজকরাও ব্যবসায়িক ক্ষতির ভয়ে প্রথাগত ছকের বাইরে বেরোতে পারেন না। পরিশেষে নীনা মন্তব্য করেন যে, সময়ের সাথে বিজ্ঞাপনের চাকচিক্য বাড়লেও নারীর প্রতি সমাজের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ বৈষম্য আজও অপরিবর্তিত রয়ে গিয়েছে।

