প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই বড় জয়, কাঠুয়ায় সেনার গুলিতে খতম জইশ কমান্ডার উসমান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
জম্মু-কাশ্মীর: ২৬শে জানুয়ারির প্রাক্কালে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল ভারতীয় সেনা। জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিকেশ হয়েছে পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদের (JeM) শীর্ষ কমান্ডার উসমান ওরফে আবু মাভিয়া। ‘অপারেশন থ্রাশ-ই’-এর আওতায় চালানো এই অভিযানে উপত্যকায় জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক এক বড় ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে।
চিরুনি তল্লাশিতে মিলল সাফল্য
জম্মুর আইজি ভীম সেন তুতি জানিয়েছেন, বিল্লাওয়ারের পারহেতার এলাকায় জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার খবর পেয়েই ঘিরে ফেলেছিল সেনাবাহিনী ও সিআরপিএফ-এর যৌথ দল। নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গিরা একটি বাড়ি থেকে অতর্কিত গুলি চালানো শুরু করলে শুরু হয় গুলির লড়াই। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই এনকাউন্টারে শেষ পর্যন্ত খতম হয় মোস্ট ওয়ান্টেড উসমান। তার কাছ থেকে একটি অত্যাধুনিক M4 স্বয়ংক্রিয় রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে।
দীর্ঘদিনের শত্রু ছিল উসমান
নিহত জঙ্গি উসমান আদতে পাকিস্তানি নাগরিক। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে সে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে উধমপুর ও কাঠুয়া সেক্টরে জঙ্গি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল। চলতি মাসের ৭ ও ১৩ তারিখে কাহোগ ও নাজোট বনাঞ্চলে হওয়া দুটি পৃথক এনকাউন্টারে সে নিরাপত্তা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। গত রবিবার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন প্যারাট্রুপার শহিদ হন এবং সাতজন জওয়ান আহত হয়েছিলেন, যার নেপথ্যে এই উসমানের হাত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় উপত্যকা
প্রজাতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে কাশ্মীরে জারি রয়েছে হাই অ্যালার্ট। ‘অপারেশন থ্রাশ-ই’-এর মাধ্যমে জঙ্গিদের গোপন ডেরাগুলো গুঁড়িয়ে দিতে কাজ করছে বিশেষ বাহিনী। উসমান নিহত হওয়ার পরেও এলাকায় আরও কোনো জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি ও চিরুনি তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী।

