লেটেস্ট নিউজ

প্রজাতন্ত্র দিবসে ইতিহাস গড়ছেন রাজৌরির সিমরান, নেতৃত্বে ১৪০ পুরুষের বাহিনী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে রাজধানী দিল্লির ‘কর্তব্য পথ’। এবার সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) বিশাল পুরুষ কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেবেন মাত্র ২৬ বছর বয়সী দুর্ধর্ষ মহিলা অফিসার সিমরান বালা। দেশের বৃহত্তম কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে একজন নারী অফিসার সম্পূর্ণ পুরুষ বাহিনীর মার্চিং কন্টিনজেন্টের কমান্ড সামলাবেন।

কঠোর পরীক্ষা ও যোগ্যতার জয়

জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী জেলা রাজৌরির নওশেরা থেকে উঠে আসা সিমরানকে এই গুরুদায়িত্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে অত্যন্ত কঠোর মূল্যায়নের পর। কয়েক সপ্তাহের অবিরাম মহড়া, নিখুঁত শারীরিক কসরত এবং কমান্ডিং পাওয়ার পরীক্ষার পর ১৪০ জন পুরুষ কর্মীর দলকে পরিচালনা করার দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। এটি ভারতের ইউনিফর্মধারী পরিষেবায় লিঙ্গবৈষম্য ভেঙে যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্বের এক অনন্য মাইলফলক।

বাস্তার থেকে কর্তব্য পথ: এক লড়াকু সফর

সিমরান বালার এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। প্রথম প্রচেষ্টাতেই UPSC-র CAPF পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি CRPF-এ যোগ দেন এবং মেধা তালিকায় শীর্ষ ১০০-র মধ্যে স্থান করে নেন। প্রশিক্ষণ শেষে তার প্রথম পোস্টিং ছিল ছত্তিশগড়ের নকশাল অধ্যুষিত বাস্তার এলাকায়। সেখানে ‘বাস্তারিয়া ব্যাটালিয়ন’-এ কাজ করার সময় তার অসীম সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সিনিয়র অফিসারদের নজর কেড়েছিল। সীমান্তবর্তী এলাকায় বড় হওয়া সিমরান ছোটবেলা থেকেই সেনাদের শৃঙ্খলা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। রাজৌরি জেলা থেকে তিনিই প্রথম মহিলা যিনি CRPF-এ গ্রুপ-এ অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

সিমরানের বার্তা ও আগামীর স্বপ্ন

সিমরান মনে করেন, বর্তমানে বাহিনীতে লিঙ্গের চেয়ে যোগ্যতাই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। তিনি বলেন, “ভারতবর্ষের জাতীয় পর্যায়ের এমন এক অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেওয়া আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের। আমরা এক মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আশা করি কর্তব্য পথে আমাদের শৃঙ্খলার প্রতিফলন ঘটবে।” জম্মু-কাশ্মীরের তরুণীদের উদ্দেশ্যে তার স্পষ্ট বার্তা— “নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো এবং বড় স্বপ্ন দেখো। শিক্ষা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে আজ আর কোনো লক্ষ্যই আসাম্ভব নয়।”

সিমরান বালার এই অনন্য কৃতিত্ব শুধুমাত্র তার পরিবারের জন্য নয়, বরং সমগ্র রাজৌরি এবং ভারতীয় নারীশক্তির কাছে এক গর্বের বিষয়। ২৬শে জানুয়ারি যখন তিনি ১৪০ জন জওয়ানের অধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতির সামনে দিয়ে মার্চ করবেন, তখন তা হবে ভারতের আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক প্রগতিশীল রূপান্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *