প্রতারণা করে বিয়ে করলেই ৭ বছরের জেল, লিভ-ইনের জন্যও রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক! গুজরাটে পাস হলো ঐতিহাসিক ইউসিসি বিল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক ।। উত্তরাখণ্ডের পর এবার ভারতের দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বিল পাস করল গুজরাট। মঙ্গলবার বিধানসভায় দীর্ঘ সাত ঘণ্টার উত্তপ্ত বিতর্কের পর ধ্বনি ভোটে এই বিল অনুমোদিত হয়। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক সংস্কার হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিলে যা যা রয়েছে
প্রস্তাবিত ‘গুজরাট ইউনিফর্ম সিভিল কোড ২০২৬’ আইনটি রাজ্যের সমস্ত নাগরিকের ওপর সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এমনকি রাজ্যের বাইরে বসবাসকারী গুজরাতিদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর থাকবে। তবে তপশিলি উপজাতিভুক্ত (এসটি) মানুষ এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী যাদের ঐতিহ্যগত অধিকার সংবিধান দ্বারা সংরক্ষিত, তাদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
কঠোর শাস্তির বিধান
নতুন এই আইনে বিয়ে ও লিভ-ইন রিলেশনশিপ নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে:
- প্রতারণামূলক বিবাহ: জোরপূর্বক, চাপ দিয়ে বা প্রতারণা করে বিয়ে করলে অভিযুক্তের ৭ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
- বহুবিবাহ: বহুবিবাহের ক্ষেত্রেও সমান মেয়াদের জেলের বিধান রাখা হয়েছে।
- বিবাহ নিবন্ধন: বিয়ের ৬০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ৩ মাসের জেল হতে পারে।
- লিভ-ইন রিলেশনশিপ: লিভ-ইন সঙ্গীদের জন্যও রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এটি নারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
মুসলিম বিধায়কদের আপত্তি ও কংগ্রেসের বিরোধিতা
বিলটি পেশ হওয়ার পর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে বিধানসভা। কংগ্রেস বিধায়ক ইমরান খেড়াওয়ালার মতে, এই আইন শরিয়ত ও কোরআনের অবমাননা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, মুসলিম সম্প্রদায় এই হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না এবং প্রয়োজনে তারা আদালতের দ্বারস্থ হবে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক শৈলেশ পারমার অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই বিজেপি সরকার তড়িঘড়ি করে এই বিল পাস করেছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি ছিল বিলটি স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানোর, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা গৃহীত হয়নি।
বিজেপির দাবি, এই আইন সমাজের সকল স্তরে সাম্য বজায় রাখবে এবং উত্তরসূরি নির্বাচন ও সম্পত্তির অধিকারে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করবে।

