লেটেস্ট নিউজ

প্রতি বছর ২৮ হাজার নতুন আক্রান্ত দেশে ক্যানসারের হাড়হিম করা পরিসংখ্যান দিল সরকার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতে ক্যানসারের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২৮ হাজার নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হচ্ছেন এবং বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে প্রায় ১৫ হাজার করে। রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (ICMR) পরিসংখ্যান তুলে ধরে এই উদ্বেগজনক চিত্র প্রকাশ করেছেন।

সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২১ সালে দেশে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৪.২৬ লক্ষ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫.৭ লক্ষে। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১.৪৪ লক্ষেরও বেশি। একই সময়ে মৃত্যুর মিছিলও দীর্ঘ হয়েছে। ২০২১ সালে ক্যানসারে মৃত্যু হয়েছিল ৭,৮৯,২০২ জনের, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা পৌঁছেছে ৮,৬৮,৫৮৮-তে। পাঁচ বছরে মৃত্যু বেড়েছে ৭৯ হাজারের বেশি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জনবহুল রাজ্যগুলিতেই ক্যানসারের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২.১ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এর পরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র (১.২১ লক্ষ) এবং বিহার (১.০৯ লক্ষ)। মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকেও এই তিন রাজ্য উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত পাঁচ বছরে উত্তরপ্রদেশে ১১ হাজারের বেশি, বিহারে ৬,৫০০ এবং মহারাষ্ট্রে ৬,৩৭০ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে ক্যানসারে।

বিশেষজ্ঞরা এই মারণরোগ বাড়ার পেছনে মূলত সাতটি কারণকে দায়ী করছেন। দিল্লির এইমস-এর সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. মুকুরদীপ রায়ের মতে, বড় শহরগুলিতে মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণ এবং অনেক অঞ্চলে দূষিত জল ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া গ্রামীণ এলাকায় সঠিক রোগ নির্ণয় ও রিপোর্টিংয়ের অভাব থাকায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশে ১৯টি স্টেট ক্যানসার ইনস্টিটিউট এবং ২০টি টারশিয়ারি ক্যানসার সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল সেন্টার বিভিন্ন শহরে নতুন হাসপাতাল তৈরি করছে এবং ২২টি নতুন এইমস-এ ক্যানসার চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেছেন যে, আগামী তিন বছরে দেশের সব জেলা হাসপাতালে ডে-কেয়ার ক্যানসার সেন্টার তৈরি করা হবে, যেখানে কেমোথেরাপির সুবিধা মিলবে।

তবে পরিকাঠামো বাড়লেও চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনকোলজিস্টের অভাব এবং রেডিওথেরাপি ব্যবস্থার ঘাটতি বড় বাধা। ভারতে এখনও প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে একেবারে শেষ পর্যায়ে রোগ ধরা পড়ে। তাই ব্রেস্ট, সার্ভাইক্যাল ও ওরাল ক্যানসারের স্ক্রিনিং বাড়ানো, এইচপিভি টিকাকরণ এবং তামাকবিরোধী কর্মসূচি জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *