প্রয়াত মুকুল রায়: কৃষ্ণনগরে শোকের আবহ ও এক বর্ণময় রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক মহলে। রবিবার রাতে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ৭২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের ভাজনঘাট গ্রামে শোকাতুর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা এই দক্ষ সংগঠকের প্রয়াণে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হলেও পরবর্তীকালে শারীরিক অসুস্থতা ও রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে তিনি দীর্ঘকাল এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। এর ফলে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রটি কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ উন্নয়ন থমকে যাওয়া নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেও, ব্যক্তিগত মানুষ হিসেবে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভোলেননি।
বাংলার রাজনীতিতে ‘চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত মুকুল রায় নদীয়া জেলাকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে চিনতেন। একসময় তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রাজনৈতিক কর্মীদের উৎসাহিত করত। রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তাঁর এই প্রয়াণ এক দীর্ঘ ও বর্ণময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল। কৃষ্ণনগরের মানুষ একদিকে যেমন পরিষেবা না পাওয়ার বিড়ম্বনায় ক্ষুব্ধ, অন্যদিকে তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় আজ শোকাতুর।

