প্লাস্টিক শিল্পে স্বস্তি দিতে কাঁচামালের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করল কেন্দ্র

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে কাঁচামালের তীব্র সংকট ও আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষের প্রভাবে বিশ্ববাজারে খনিজ তেল ও গ্যাসের জোগান ব্যাহত হওয়ায় ভারতীয় প্লাস্টিক শিল্প গভীর সংকটের মুখে পড়েছিল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পলিপ্রপিলিন, পলিইথিলিন, পিভিসি এবং পেটের মতো বিভিন্ন ধরনের পলিমারের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে আগামী তিন মাসের জন্য এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে, যার ফলে আমদানিকৃত এই কাঁচামালগুলোর ওপর শুল্ক এখন শূন্য শতাংশ।
ইন্ডিয়ান প্লাস্টিক ফেডারেশনের (আইপিএফ) দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত শিল্পমহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট অমিত আগরওয়াল ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কে কে সেকসরিয়া জানিয়েছেন, গত মার্চ মাসেই কাঁচামালের দাম গড়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ভারত তার প্রয়োজনীয় পলিমারের প্রায় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে, বাকিটা অভ্যন্তরীণ শোধনাগার থেকে আসে। আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে দেশীয় সংস্থাগুলো চাইলেই কাঁচামালের দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়াতে পারবে না, যা পরোক্ষভাবে মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম টানতে সাহায্য করবে।
তবে শুল্ক কমলেও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্যের দাম এখনই কমবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। বালতি, মগ, চেয়ার থেকে শুরু করে ওষুধ বা খাদ্যের মোড়ক তৈরির সাথে যুক্ত প্রায় ৭০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থা এই সিদ্ধান্তের সুফল পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, যেখানে প্রায় ৫ হাজার এমন ইউনিট রয়েছে, সেখানে কয়েক হাজার কর্মসংস্থান এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। আমদানিকারকরা এখন পশ্চিম এশিয়ার বিকল্প হিসেবে চিন বা সিঙ্গাপুরের মতো বাজার থেকে পলিমার সংগ্রহের ওপর জোর দিচ্ছেন। আগামী কয়েক দিনের বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপের প্রকৃত কার্যকারিতা স্পষ্ট হবে।
