ফ্ল্যাট কেনার আগে সাবধান! প্রোমোটার চাইলেই কি পকেটে টান দিতে পারে? জানুন আপনার রক্ষাকবচ ‘রেরা’ আইন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আবাসন বা স্বপ্নের ফ্ল্যাট কেনার কথা ভাবছেন? মাঝেমধ্যেই শোনা যায়, টাকা দিয়েও ফ্ল্যাট পাচ্ছেন না ক্রেতারা অথবা প্রোমোটার মাঝপথে কাজ থামিয়ে উধাও হয়ে গিয়েছেন। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ মেটাতে এবং রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসায় স্বচ্ছতা আনতে কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৬ সালে নিয়ে এসেছে ‘রিয়্যাল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি’ বা ‘রেরা’ (RERA) আইন। এই আইনটি আসলে মধ্যবিত্তের মাথার ওপর ছাদ নিশ্চিত করার এক শক্তিশালী ঢাল।
বুকিংয়ের নামে যাচ্ছেতাই টাকা? একদম নয়
আগেকার দিনে অনেক প্রোমোটার বা নির্মাণকারী সংস্থা ফ্ল্যাট বুকিংয়ের নামেই মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। কিন্তু রেরা আইন আসার পর সেই দিন শেষ। এখন কোনো নির্মাণকারী সংস্থা আবাসনের মোট মূল্যের ১০ শতাংশের বেশি টাকা অগ্রিম বা বুকিং মানি হিসেবে নিতে পারবে না। এর চেয়ে বেশি টাকা নিতে হলে ক্রেতার সঙ্গে আইনি চুক্তি করা বাধ্যতামূলক।
আপনার টাকা কোথায় যাচ্ছে? থাকছে কড়া নজরদারি
অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, ফ্ল্যাট কেনার জন্য যে টাকা দেওয়া হচ্ছে, তা কি অন্য কোনো প্রকল্পে খরচ করা হচ্ছে? রেরা আইনের নিয়ম অনুযায়ী, ক্রেতাদের থেকে নেওয়া টাকার ৭০ শতাংশ একটি নির্দিষ্ট ‘এসক্রো’ (Escrow) অ্যাকাউন্টে জমা রাখতে হবে। এই টাকা শুধুমাত্র ওই নির্দিষ্ট আবাসন প্রকল্পের নির্মাণকাজ এবং জমির দাম মেটানোর জন্যই খরচ করা যাবে। ফলে প্রোমোটার চাইলেই আপনার টাকা অন্য কোথাও সরিয়ে দিতে পারবেন না।
স্বচ্ছতা এবং আইনি সুরক্ষা
একটি আবাসন প্রকল্প শুরু করার আগে সেটিকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রেরা পোর্টালে নথিভুক্ত করা আবশ্যিক। সেখানে জমির মালিকানা, নির্মাণের নকশা, কত তলা বাড়ি হবে এবং কবে কাজ শেষ হবে— সব তথ্য জনসমক্ষে থাকতে হবে। এমনকি কাজ চলাকালীন যদি নকশায় কোনো পরিবর্তন করতে হয়, তবে দুই-তৃতীয়াংশ ক্রেতার লিখিত সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
দেরি হলেই কড়া শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ
চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে না পারলে বিপাকে পড়তে হবে নির্মাণকারী সংস্থাকে। কাজ শেষ করতে দেরি হলে ক্রেতা চাইলে তাঁর দেওয়া টাকা সুদ-সহ ফেরত নিতে পারেন। অথবা যদি তিনি ফ্ল্যাট নিতেই চান, তবে দেরি হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট হারে মাসিক ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার তাঁর রয়েছে। এই সংক্রান্ত বিবাদের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রয়েছে বিশেষ ট্রাইবুনাল, যেখানে আইনি লড়াই অনেক সহজ এবং কার্যকর।
২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের রিয়্যাল এস্টেট বাজার এক লক্ষ কোটি ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুল অগ্রগতির নেপথ্যে রেরা আইনের কঠোর নজরদারি ক্রেতাদের মনে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। তাই স্বপ্নের আবাসন কেনার আগে প্রোমোটার রেরা নথিভুক্ত কি না, তা যাচাই করে নেওয়া আপনার প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য।

