বকেয়া ডিএ নিয়ে নবান্নে জরুরি বৈঠক কি এবার মিটবে শিক্ষক ও পুরকর্মীদের দীর্ঘ অপেক্ষা

বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানো নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে এবার সরাসরি ময়দানে নামল রাজ্য সরকার। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চার বছরের বকেয়া ডিএ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে এককালীন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নবান্ন। সেই অনুযায়ী রাজ্য সরকারি দপ্তরের অধিকাংশ কর্মী ইতিমধ্যে তাঁদের পাওনা বুঝে পেলেও, এখনও বঞ্চিত রয়েছেন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। একই পরিস্থিতি পুরসভা ও পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্মীদেরও। এই বকেয়া অর্থ না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যা প্রশমনে আজ বুধবার নবান্নে একটি হাইভোল্টেজ বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে।
অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব প্রভাতকুমার মিশ্রের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে মূলত বকেয়া মেটানোর পথে থাকা বাধাগুলো খতিয়ে দেখা হবে। অর্থ দপ্তরের অডিট শাখা আগেই নির্দেশ দিয়েছিল যে, যেসব দপ্তরের কর্মীরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের মাসিক ডিএ প্রদানের হার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। গত ১২ মার্চ এই মর্মে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে চিঠিও পাঠানো হয়েছিল। আজকের বৈঠকে সেই তথ্য সংগ্রহের কাজ কতদূর এগোল এবং দ্রুত অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকের গুরুত্ব বিবেচনা করে উচ্চশিক্ষা, স্কুলশিক্ষা, পুর ও নগরোন্নয়ন, পঞ্চায়েত এবং পরিবহণ দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দপ্তরের সচিবদের পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক উপদেষ্টাদেরও (Financial Advisors) বৈঠকে থাকতে বলা হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক স্তরে তথ্যের অমিল বা টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণেই এই বিলম্ব কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের পথ বের করাই নবান্নের প্রাথমিক লক্ষ্য। এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে কয়েক লক্ষ শিক্ষক ও সরকারি কর্মীর বকেয়া ডিএ প্রাপ্তির ভাগ্য। নবান্নের এই তৎপরতায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মনে পুনরায় আশার আলো সঞ্চার হয়েছে।
