বদলে যাচ্ছে কেরলের নাম! বিধানসভা ভোটের মুখে মোদী ক্যাবিনেটের বড় সিদ্ধান্তে শোরগোল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
জাতীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘কেরল’ রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্যাবিনেট বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এখন থেকে এই দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যটি দাপ্তরিকভাবে ‘কেরলম’ নামে পরিচিত হবে।
মূলত মালয়ালম ভাষায় এই রাজ্যকে ‘কেরলম’ বলা হয়। রাজ্যের নিজস্ব পরিচিতি এবং ভাষাগত ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিতেই কেরল বিধানসভা সর্বসম্মতিক্রমে এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পিএমও কমপ্লেক্সের সেবাতীর্থ-এ অনুষ্ঠিত বৈঠকে কেন্দ্র সেই প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছে। সামনেই কেরল বিধানসভা নির্বাচন, আর তার ঠিক আগেই কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য সুখবর
রাজ্যের নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কাঁচা পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৬-২৭ বিপণন মরসুমের জন্য প্রতি কুইন্টাল পাটের দাম ২৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে প্রতি কুইন্টাল কাঁচা পাটের এমএসপি দাঁড়াল ৫,৯২৫ টাকা। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে পাট চাষিরা সরাসরি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
রেল ও মেট্রো প্রকল্পে বিশাল বিনিয়োগ
যোগাযোগ ব্যবস্থার ভোল বদলে দিতে একগুচ্ছ বড় প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে ক্যাবিনেট কমিটি অন ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স।
- মেট্রো সম্প্রসারণ: গুজরাটের গিফট সিটি থেকে শাপুর পর্যন্ত ৩.৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ উত্তর-দক্ষিণ মেট্রো করিডোর সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১,০৬৭.৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে তিনটি স্টেশন থাকবে এবং আগামী চার বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
- রেলওয়ে প্রজেক্ট: মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের ৮টি জেলা জুড়ে বিস্তৃত ৩০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তিনটি নতুন রেল প্রকল্পের জন্য ৯,০৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
- বিমানবন্দর উন্নয়ন: ঝাড়খণ্ডের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১,৬৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিভিল এনক্লেভ সম্প্রসারণের কাজও এই বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে কেন্দ্রের এই গুচ্ছ ঘোষণা আগামী নির্বাচনে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

