বফর্স থেকে আবগারি সব অভিযোগই সার, আদালতে টিকল না দুর্নীতির পাহাড় সমান কোনো প্রমাণই – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 28, 202610:12 am
নয়াদিল্লি
বফর্স কামান, টুজি স্পেকট্রাম কিংবা হালের দিল্লির আবগারি মামলা— ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিটি ঘটনাই যেন একই বৃত্তে বন্দি। হিমালয় সমান দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা হলো, জনমতের চাপে বদলে গেল সরকারের কুর্সি, অথচ শেষ পর্যন্ত আদালতের কাঠগড়ায় প্রমাণিত হলো না কিছুই।
১৯৮৭ সালে সুইডিশ রেডিওর একটি খবরে তোলপাড় হয়েছিল দেশ। রাজীব গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে বফর্স কামানের বরাতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে রাজপথ কেঁপেছিল ‘গলি গলি মে শোর হ্যায়’ স্লোগানে। ১৯৮৯ সালের লোকসভা ভোটে ক্ষমতা হারায় কংগ্রেস। কিন্তু দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত জানায়, দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি। এমনকি মোদি জমানায় ২০১৮ সালে সিবিআই নতুন করে মামলা শুরুর আবেদন জানালে Supreme \titleonly কোর্ট তা খারিজ করে দেয়।
একই চিত্রনাট্য দেখা গিয়েছিল ইউপিএ জমানার টুজি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারিতেও। ২০১৪ সালে মনমোহন সিং সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিজেপি এই ইস্যুকে অন্যতম হাতিয়ার করেছিল। অথচ ২০১৭ সালে বিশেষ সিবিআই আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, স্পেকট্রাম বণ্টনে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মই হয়নি। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এ রাজা ও কানিমোঝি সহ সব অভিযুক্তই বেকসুর খালাস পান।
দিল্লির আবগারি দুর্নীতির মামলাটিও কার্যত সেই পথেই হাঁটল। যে অভিযোগকে ঢাল করে বিজেপি দিল্লির ভোটে জয়ী হয়েছিল এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ খোয়াতে হয়েছিল, ইডি ও সিবিআইয়ের বিস্তর দৌড়ঝাঁপের পর সেই মামলাও ধোপে টিকল না। তথ্যপ্রমাণের অভাবে আদালত কেজরিওয়াল সহ সব অভিযুক্তকেই সসম্মানে মুক্তি দিয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের হাতিয়ার হলেও আইনি লড়াইয়ে বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে ভারতের এই সব ‘মেগা স্ক্যাম’ বা বড়মাপের দুর্নীতির অভিযোগ।

