বরফজমেও থামছে না বিজ্ঞানের দৌড়! মাইনাস ৩০ ডিগ্রিতে সূর্যগ্রহণের রহস্য খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দুনিয়ার সবথেকে দুর্গম এবং শীতল মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকায় এক রোমাঞ্চকর অভিযানে নেমেছেন বিজ্ঞানীরা। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর বিরল সূর্যগ্রহণকে ঘিরে এখন সাজসাজ রব কনকর্ডিয়া এবং মিরনি স্টেশনে। হাড়কাঁপানো মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গবেষকরা অপেক্ষা করছেন সূর্যের রহস্যময় বাইরের বায়ুমণ্ডল বা ‘সোলার করোনা’র রহস্য উন্মোচনের।
চ্যালেঞ্জ যখন প্রকৃতি
অ্যান্টার্কটিকার শুষ্ক বাতাস এবং মেঘমুক্ত আকাশ সূর্যকে পর্যবেক্ষণের জন্য আদর্শ, কিন্তু এখানকার আবহাওয়া চরম প্রতিকূল। কনকনে ঠান্ডায় যন্ত্রপাতির লুব্রিকেন্ট জমে যাওয়ার ভয়ে ইঞ্জিনিয়াররা বিশেষ ‘ড্রাই লুব্রিকেন্ট’ এবং হিটিং সিস্টেম ব্যবহার করছেন। প্রকৃতির এই মরণকামড় উপেক্ষা করেই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি।
কেন এই গবেষণা জরুরি?
এই মিশনের সাফল্য সরাসরি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। সূর্য থেকে ছিটকে আসা সৌর শিখা বা ‘সোলার ফ্লেয়ার’ পৃথিবীর পাওয়ার গ্রিড, জিপিএস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মুহূর্তে ধ্বংস করে দিতে পারে। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় যখন চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেবে, তখনই বিজ্ঞানীরা করোনার গঠন খতিয়ে দেখার সুযোগ পাবেন।
এই গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে মহাজাগতিক ঝড় বা সৌর ঝড়ের পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করবে, যা বিশ্বব্যাপী বড় বিপর্যয় রুখতে সক্ষম হবে। প্রবল তুষারপাত আর হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার সঙ্গে বিজ্ঞানের এই লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।

