বাংলার ভোটার তালিকায় নজিরবিহীন কোপ, ৬০ লাখ ভোটারের নাম কি বাদ পড়তে চলেছে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে আজ প্রকাশিত হতে চলেছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ গভীর পুনরীক্ষণ বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই তালিকা ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে আশঙ্কার মেঘ। একদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রক্রিয়াকে ‘পিছনের দরজা দিয়ে এনআরসি’ বলে তোপ দেগেছে, অন্যদিকে বিজেপি একে স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের ভোটাধিকার এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে।
বিতর্কের মূলে সেই এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে ৭.০৮ কোটিতে নেমে এসেছিল। মৃত্যু, অভিবাসন এবং দ্বৈত ভোটার হওয়ার কারণে প্রায় ৫৮ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে ১.৬৭ কোটি ভোটারের শুনানি হয়, যেখানে ১.৩৬ কোটি ভোটারের তথ্যে ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ পাওয়া গেছে। বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় রয়েছে, যাদের ভবিষ্যৎ আজকের তালিকার ওপর নির্ভর করছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াই ও তৃণমূলের অভিযোগ এই ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নজিরবিহীনভাবে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে Supreme \titleonly কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের বর্তমান ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই নির্বাচন করা হোক। তৃণমূল Supreme \titleonlyোর অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভোটারকে পরিকল্পিতভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ৪ নভেম্বর এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে উদ্বেগ ও আতঙ্কে রাজ্যে অন্তত ১২০ জন ভোটার ও বুথ আধিকারিক প্রাণ হারিয়েছেন বা আত্মহত্যা করেছেন।
বিজেপি ও বাম-কংগ্রেসের অবস্থান বিজেপি নেতৃত্ব এই প্রক্রিয়াকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলছে, স্বচ্ছ ভোটার তালিকাই গণতন্ত্রের ভিত্তি। অনুপ্রবেশকারী বা ভুয়ো ভোটাররা বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে না। তবে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস স্বচ্ছতার দাবিকে স্বাগত জানালেও এই প্রক্রিয়ার সময় এবং পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সুজন চক্রবর্তীর মতো বাম নেতারা মনে করছেন, ভোটারদের মধ্যে অহেতুক ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য শুভ নয়।
আতঙ্কে সীমান্তবর্তী জেলা ও মতুয়া সমাজ সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন সীমান্ত জেলাগুলোর বাংলাভাষী মুসলিম এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশ। ২০০২ সালের পুরনো তথ্যের সাথে বর্তমান নথির মিল খোঁজার যে কড়াকড়ি কমিশন আরোপ করেছে, তাতে অনেক দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় তারা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন বারবার আশ্বস্ত করেছে যে এটি কোনো নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া নয় এবং যাদের নাম বাদ যাবে তাদের জন্য অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকবে, তবুও আজকের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

