বাঘাযতীন খুনে অভিযুক্ত দুর্ধর্ষ শার্প শ্যুটার সুকুমার, জেল পালানোর ইতিহাসসহ ঝুলিতে ৪০টি মামলা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
যাদবপুরের পূর্ব ফুলবাগানে গুলিকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সুকুমার রজক ওরফে দাসের অপরাধ জগতের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের হাতে। নব্বইয়ের দশকের শেষে দক্ষিণ শহরতলীর এক কুখ্যাত ডনের হাত ধরে তার হাতেখড়ি হয়। তদন্তে জানা গেছে, সুকুমারের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ এবং তোলাবাজিসহ বিভিন্ন থানায় ৪০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। ভাড়াটে খুনি বা ‘শার্প শ্যুটার’ হিসেবে কুখ্যাত এই দুষ্কৃতী অতীতে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে এক মাদক মাফিয়াকে পালাতে সাহায্য করেছিল।
বুধবার গভীর রাতে একটি আবাসনের ছাদে মদ্যপানের আসর চলাকালীন রাহুল দে নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং জিৎ মুখোপাধ্যায় গুরুতর আহত হন। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, মূল পাণ্ডা জয়ন্ত ঘোষের নির্দেশে সুকুমার সেখানে এসেছিল। যদিও লক্ষ্য ছিল জিৎ, কিন্তু কেন রাহুলকে গুলি করা হলো—সেটি ‘মিস টার্গেট’ নাকি পূর্বপরিকল্পিত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার পর থেকেই পলাতক সুকুমারের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় আকাশ মণ্ডল ওরফে মুখিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সুকুমারের অপরাধের জাল বারুইপুর, সোনারপুর এবং রিজেন্ট পার্কসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বিস্তৃত। বিভিন্ন দুষ্কৃতী দল তাকে ভাড়ায় নিয়ে অপারেশন চালাত বলে অভিযোগ রয়েছে। সাক্ষীর অভাবে অতীতে জামিন পেলেও, বর্তমান খুনের মামলায় তাকে ধরতে জাল বিছিয়েছে লালবাজার। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে পুলিশি তৎপরতা জারি রয়েছে।

