বাড়ির ভেতরেই ঝপাঝপ ছাপানো হচ্ছিল ৫০০ টাকার নোট! এক সবজি বিক্রেতার বুদ্ধিতে যেভাবে ফাঁস হলো জালিয়াতদের পর্দাফাঁস – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে জাল নোট তৈরির এক বিশাল কারবারের হদিস পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেল পুলিশ। কোনও গোপন আস্তানা নয়, বরং সাধারণ এক বাড়ির ভেতরেই হাই-টেক প্রিন্টার বসিয়ে রমরমিয়ে চলছিল ৫০০ টাকার জাল নোট ছাপানোর কাজ। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না; সামান্য এক সবজি বিক্রেতার উপস্থিত বুদ্ধির জোরে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এই ভয়ংকর প্রতারক চক্র।
সবজি বিক্রেতার সেই এক চাঞ্চল্যকর সন্দেহ
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে স্থানীয় এক বাজারের সবজি বিক্রেতার মাধ্যমে। এই চক্রের সদস্যরা ওই বিক্রেতাকে ৫০০ টাকার একটি জাল নোট ধরিয়ে দিয়ে সবজি কেনে। নোটটি হাতে নেওয়ার পরই তার কাগজের মান নিয়ে বিক্রেতার মনে খটকা লাগে। তিনি দেরি না করে তৎক্ষণাৎ বিষয়টি স্থানীয় পুলিশকে জানান। এরপরই নরোরা থানা এবং সোয়াট (SWAT) টিম যৌথভাবে ময়দানে নামে। নজরদারি ও গোপন সূত্রের খবর কাজে লাগিয়ে পুলিশ সরাসরি পৌঁছে যায় সেই গোপন আস্তানায়।
ভেতরে ঢুকেই চোখ কপালে উঠল তদন্তকারীদের
অভিযান চালানোর সময় ঘরের ভেতরের দৃশ্য দেখে দুঁদে পুলিশ অফিসারদেরও কার্যত হুঁশ উড়ে যায়। সেখানে পেশাদার সেটআপের মতো রাখা ছিল আধুনিক মানের কালার প্রিন্টার এবং নোট কাটার সরঞ্জাম। তল্লাশিতে পুলিশ যা উদ্ধার করেছে তা রীতিমতো উদ্বেগজনক।
- ১২ হাজার টাকার সম্পূর্ণ তৈরি জাল ৫০০ টাকার নোট।
- প্রায় ১৪ হাজার টাকার অর্ধেক ছাপানো বা কাটিং বাকি থাকা নোট।
- একটি হাই-টেক প্রিন্টার, ৩টি স্মার্টফোন এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি বাইক।
ভিড় আর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কারবার
এসপি সিটি শঙ্কর প্রসাদ জানিয়েছেন, এই জালিয়াতরা অত্যন্ত ধূর্ত ছিল। তারা মূলত স্থানীয় জনবহুল বাজার এবং সন্ধ্যার অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে এই জাল নোটগুলো বাজারে ছড়াত। তাড়াহুড়ো বা কম আলোর সুযোগে সাধারণ মানুষ বা ছোট ব্যবসায়ীরা যাতে আসল-নকলের পার্থক্য বুঝতে না পারে, সেটাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য।
পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ ও ধরপাকড়
পুলিশ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মোবাইল ফোনের ডেটা এবং কল লিস্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই চক্রের শিকড় আরও গভীরে বিস্তৃত এবং তাদের পেছনে বড় কোনও মাথা কাজ করছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। উৎসবের মরসুম বা বাজারের ব্যস্ততাকে কাজে লাগিয়ে বড়সড় অঙ্কের জাল টাকা বাজারে ছাড়ার যে পরিকল্পনা তারা করেছিল, তা ভেস্তে যাওয়ায় পুলিশ এটিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে।

