লেটেস্ট নিউজ

বাণিজ্য ঘাটতির ওপর কড়া নজর রাখতে হবে: ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরব জয়রাম রমেশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: ভারত এবং ২৭টি দেশের সংগঠন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে সম্পাদিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানাল কংগ্রেস। দলের দাবি, অ্যালুমিনিয়াম এবং ইস্পাত নির্মাতাদের ‘কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম’ (CBAM) থেকে ছাড় পাওয়া নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্র।

বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগে কংগ্রেস

কংগ্রেসের মতে, শুল্ক হ্রাসের ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির ওপর কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে কড়া নজরদারি প্রয়োজন। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেন, “এই বহুল প্রচারিত এফটিএ (FTA) এযাবতকালে কোনো বাণিজ্যিক অংশীদারকে ভারতের দেওয়া সবথেকে বড় ছাড়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ভারতে আসা ৯৬ শতাংশের বেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে। এমতাবস্থায় ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।”

আলোচনার ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি

জয়রাম রমেশ জানান, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা প্রথম শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালের জুনে। ১৬ দফা আলোচনার পর ২০১৩ সালে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইস্যুতে ঐক্যমত্য না হওয়ায় তা স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২২ সালের জুন মাসে এই আলোচনা পুনরায় শুরু হয়।

অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাত শিল্পে বিপদের মেঘ

কংগ্রেস নেতার প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো সিবিএএম (CBAM)। তিনি বলেন, “মোদী সরকার আমাদের অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাত নির্মাতাদের এই নিয়ম থেকে ছাড় মেলাতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের এই দুই পণ্যের রপ্তানি ইতিপূর্বেই ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই বছর থেকে তা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। ভবিষ্যতে এর প্রভাব অন্যান্য শিল্প পণ্যের ওপরেও পড়বে, যা আদতে এই বাণিজ্য চুক্তির সুফলকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।”

অন্যান্য চ্যালেঞ্জ ও স্বাস্থ্য বিধি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কড়া স্বাস্থ্য ও পণ্য নিরাপত্তা বিধি নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জয়রাম রমেশ। তাঁর মতে, এগুলি ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যে ‘নন-ট্যারিফ ট্রেড ব্যারিয়ার’ বা অশুল্ক বাধা হিসেবে কাজ করতে পারে। এছাড়া ওষুধ শিল্পের ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস’ (IP) সংক্রান্ত প্রশ্নেরও কোনো সদুত্তর মেলেনি।

অটোমোবাইল ও জ্বালানি রপ্তানি

অটোমোবাইল সেক্টর নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ইইউ-র জন্য বাজার খুলে দেওয়া দেশীয় নির্মাতাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যখন বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) গুরুত্ব বাড়ছে। পাশাপাশি রাশিয়ার থেকে আনা অপরিশোধিত তেল শোধনের পর ইউরোপে রপ্তানির ভবিষ্যৎ নিয়েও ওয়াশিংটনের চাপের মুখে স্পষ্টতার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইইউ-র শীর্ষ নেতৃত্ব এই চুক্তিকে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *