বাবার নাম নয়, শুধু মায়ের পরিচয়েই ভবিষ্যৎ! আদালতের রায়ে বদলাচ্ছে বহু জীবনের গল্প
ধর্ষণ ও সামাজিক কলঙ্কের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক রায় দিল বম্বে হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান সমাজে কেবল তার মায়ের নাম এবং বর্ণ পরিচয়ে পরিচিত হতে পারবে। মহারাষ্ট্রের বিড় জেলার এক ১২ বছর বয়সী কিশোরী ও তার মায়ের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি বিভা কঙ্কানওয়াড়ি এবং বিচারপতি হিতেন এস. ভেনেগাভকরের বেঞ্চ এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
মামলাটির প্রেক্ষাপটে জানা যায়, যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ওই কিশোরীর জন্ম হয়েছিল এবং স্কুলের নথিতে অভিযুক্ত বাবার নাম নথিভুক্ত ছিল। তবে ২০২২ সালে এক আইনি মীমাংসার মাধ্যমে মা সন্তানের পূর্ণ অভিভাবকত্ব পান। এরপরই তাঁরা নথিপত্র থেকে বাবার নাম মুছে মায়ের পদবি ও জাতিগত পরিচয় ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। ডিএনএ রিপোর্টে পিতৃত্ব প্রমাণিত হলেও আদালত মায়ের মর্যাদাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে।
হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, একজন একা মা যখন তার সন্তানকে নিজস্ব পরিচয় ও বংশমর্যাদা দেন, তখন সমাজ দুর্বল হয় না বরং আরও সভ্য ও দৃঢ় হয়। একে পিতৃতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে সাংবিধানিক পছন্দের জয় হিসেবে দেখছেন বিচারপতিরা। আদালত জোর দিয়ে বলেছে, বংশ পরিচয়কে কেবল ভাগ্য হিসেবে না দেখে ব্যক্তিগত মর্যাদাকে অধিকার হিসেবে গণ্য করাই প্রকৃত সামাজিক পরিবর্তন।

