লেটেস্ট নিউজ

বাবার মারণরোগই কি কাল হলো, একরত্তিকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দিদিমণির বিরুদ্ধে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট: সমাজ কি আজও তিমিরেই রয়ে গেল? উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে এক মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বাবার শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণরোগ এইচআইভি (HIV), আর সেই ‘অপরাধে’ চার বছরের এক শিশুকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বা আইসিডিএস স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ দিদিমণির বিরুদ্ধে। আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও এমন চরম অমানবিকতা এবং কুসংস্কারের শিকার হতে হলো একরত্তি শিশুটিকে, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত

বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের মথুরাপুর এলাকার এক বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে এইচআইভি আক্রান্ত। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাবার অসুস্থতার খবর এলাকায় জানাজানি হতেই শুরু হয় সামাজিক লাঞ্ছনা। অভিযোগ, ওই ব্যক্তির চার বছরের ছেলে প্রতিদিনের মতো স্থানীয় আইসিডিএস কেন্দ্রে পড়তে গেলে সেখানকার দিদিমণি তাকে স্কুল থেকে চলে যেতে বলেন। শিশুটি বাড়ি ফিরে কান্নাকাটি শুরু করলে তার মা তাকে নিয়ে ফের স্কুলে যান কারণ জানতে।

মানবিকতার হার বনাম দিদিমণির সাফাই

শিশুটির মায়ের দাবি, দিদিমণি সরাসরি তাঁকে জানান যে শিশুটির বাবা ‘খারাপ রোগে’ আক্রান্ত, তাই তাকে আর স্কুলে রাখা সম্ভব নয়। অন্য বাচ্চাদের সংক্রমণের আশঙ্কায় বা সামাজিক চাপের দোহাই দিয়ে ওই শিশুকে ব্রাত্য করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। শিশুর পিসি জানিয়েছেন, বাড়ি বয়ে খাবার পাঠিয়ে দেওয়া হলেও শিশুটিকে স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। একরত্তি ছেলের পড়াশোনার ভবিষ্যৎ এবং এমন সামাজিক অপমানের বিচার চেয়ে ইতিমধ্যেই বসিরহাট মহকুমা শাসকের দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবারটি।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত দিদিমণি যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কখনওই শিশুটিকে স্কুল থেকে বের করে দেননি। এটি তাঁর বিরুদ্ধে এক গভীর চক্রান্ত এবং তাঁকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা চলছে। এমনকি নিজের স্বপক্ষে কিছু ছবিও প্রমাণ হিসেবে দাখিল করার কথা বলেছেন তিনি।

আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি

এই ঘটনায় স্বাস্থ্য দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজর দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এইচআইভি ছোঁয়াচে রোগ নয় এবং আক্রান্তের সন্তানের সঙ্গে মেলামেশায় কোনো ঝুঁকি থাকে না। এমতাবস্থায় একজন শিক্ষিকা কীভাবে এমন অবৈজ্ঞানিক ও অমানবিক আচরণ করতে পারেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বসিরহাট মহকুমা প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ওই শিশুর স্কুলে ফেরার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে। সমাজের এই সংকীর্ণ মানসিকতা বনাম এক শিশুর শিক্ষার লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে মথুরাপুর গ্রাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *