বালিগঞ্জে সোমেন পুত্রকে টিকিট দেওয়া নিয়ে রণক্ষেত্র বিধান ভবন, মাথা ফাটল কর্মীর

প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতর বিধান ভবনে প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। বুধবার দুপুরে বালিগঞ্জ কেন্দ্রে প্রয়াত নেতা সোমেন মিত্রের পুত্র রোহন মিত্রের প্রার্থিপদ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অভিযোগ, দক্ষিণ কলকাতার কংগ্রেস নেতা জায়েদ হোসেনের অনুগামীরা রোহনের প্রার্থিপদ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। দফায় দফায় ধস্তাধস্তি ও চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের ঘটনায় এক কর্মীর মাথা ফেটেছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।
বিক্ষোভকারীদের মূল নিশানায় ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে টিকিট বিক্রির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে সদর দফতরের দেওয়ালে পোস্টার সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। জায়েদ হোসেনের দাবি, দল তাকে আগে বালিগঞ্জ থেকে প্রার্থী করার আশ্বাস দিলেও শেষ মুহূর্তে রোহন মিত্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে এই প্রার্থী বদল করা হয়েছে। এই নিয়ে বাগবিতণ্ডা চলাকালীন দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মহিলা কর্মীদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘদিন বিধান ভবনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ নেতা অসিত মিত্র এই ঘটনায় স্তম্ভিত। তিনি জানান, দলের সদর দফতরে এমন নক্কারজনক পরিস্থিতি তিনি আগে কখনও দেখেননি। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই তাণ্ডব সামলাতে উপস্থিত নেতারা ব্যর্থ হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দলীয় কোন্দল এমন পর্যায়ে পৌঁছানোয় অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব।
বিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রোহন মিত্র অবশ্য বিক্ষোভের সময় বিধান ভবনে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি তখন বালিগঞ্জ কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, দল তাঁকে প্রার্থী করেছে এবং তিনি নিজের কাজ করছেন; কারা বা কেন এই গোলমাল করছে সে বিষয়ে তাঁর কোনো সম্যক ধারণা নেই। টিকিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে এই অসন্তোষ আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেসের ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
