বিচারপতির এজলাসে হঠাৎ এমন আর্জি! পেটে খিদে আর শরীর ক্লান্ত হওয়ায় রায়দান স্থগিত রাখলেন বিচারপতি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইলাহাবাদ হাইকোর্টের এজলাসে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। সাধারণত আদালত কক্ষের গাম্ভীর্য আর আইনি মারপ্যাঁচের ভিড়ে মানুষের মানবিক প্রয়োজনগুলো ঢাকা পড়ে যায়, কিন্তু এবার খোদ বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী শোনালেন এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা। সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনি আর দীর্ঘ সময়ের শুনানির পর তিনি জানালেন, শরীর আর সায় দিচ্ছে না। পেটে প্রচণ্ড খিদে এবং প্রবল ক্লান্তির কারণে তিনি শারীরিকভাবে রায় ঘোষণা করতে অক্ষম। আর এই কারণেই একটি মামলার রায়দান আপাতত স্থগিত বা ‘রিজার্ভ’ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই সন্ধ্যায়?
ডেটস রিকভারি ট্রিব্যুনাল সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি চলছিল বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থীর এজলাসে। বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটে শুনানি শুরু হওয়ার পর ঘড়ির কাঁটা পেরিয়ে যায় সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট। আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা শেষ হয়ে গেলেও মামলার গুরুত্ব বুঝে টানা তিন ঘণ্টা ধরে সওয়াল-জবাব শোনেন বিচারপতি। Supreme \titleonly কোর্টের পূর্বনির্দেশ অনুযায়ী, এই মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা ছিল এবং সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছিল ২৪ ফেব্রুয়ারিই। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ বজায় রাখতে গিয়েই বিচারপতি রাত পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যান।
নথিতে কী লিখলেন বিচারপতি?
শুনানি শেষ হওয়ার পর বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী তাঁর লিখিত আদেশে অত্যন্ত সততার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকলেও শারীরিক ক্লান্তির কাছে হার মেনেছেন। ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপতি তাঁর আদেশে স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “আমি এখন ক্ষুধার্ত এবং প্রচণ্ড ক্লান্ত। এই মুহূর্তে শারীরিকভাবে রায় ঘোষণা করার মতো অবস্থায় আমি নেই। তাই এই মামলার রায় সংরক্ষিত রাখা হলো।” এক জন উচ্চপদস্থ বিচারপতির এমন স্বীকারোক্তি আইনি মহলে যেমন বিস্ময় তৈরি করেছে, তেমনই কুর্নিশ জানিয়েছেন অনেকে।
বিচারকদের ছুটি ও কাজের চাপ নিয়ে বিতর্ক
সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই একটি ধারণা কাজ করে যে, বিচারপতিরা প্রচুর ছুটি পান এবং তাঁদের কাজের চাপ কম। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি যে সম্পূর্ণ বিপরীত, এই ঘটনা তা আরও একবার প্রমাণ করল। ভারতের বিচারব্যবস্থায় মামলার পাহাড় এবং প্রতিটি শুনানিতে যে পরিমাণ মানসিক ও শারীরিক শ্রম দিতে হয়, তা সাধারণের কল্পনার বাইরে।
এর আগে ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি.ওয়াই. চন্দ্রচূড় এই প্রসঙ্গে সরব হয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, Supreme \titleonly কোর্ট বা হাইকোর্টের বিচারপতিরা বছরে ৩৬৫ দিনই কার্যত চব্বিশ ঘণ্টা কাজের মধ্যে থাকেন। ভারতের বিচার বিভাগ বিশ্বের অন্যতম কর্মব্যস্ত ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থীর এই ঘটনাটি কেবল একটি মামলার শুনানি স্থগিত হওয়া নয়, বরং বিচারালয়ের অন্দরের কঠোর পরিশ্রম এবং মানবিক সীমাবদ্ধতার এক জীবন্ত দলিল হয়ে রইল।

