বিদায়ী রাজ্যপাল বোসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিস্ফোরক মমতা, অবিচার ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যপালের পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক ইস্তফা ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। মঙ্গলবার বিদায়ী রাজ্যপালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আলিপুরের একটি অতিথিশালায় তাঁদের এই সাক্ষাতের পর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আনন্দ বোসের সঙ্গে অন্যায় ও অবিচার করা হয়েছে এবং এই গোটা বিষয়টিই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সম্প্রতি রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু থেকেই সরব মুখ্যমন্ত্রী। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে বার বার কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দেগে মমতা প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড় বছর আগেই এবং বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যপাল বদল করা হলো? মঙ্গলবারও সেই একই সুরে তিনি বলেন, “ওঁর ওপর অবিচার হয়েছে। পাঁচ বছরের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি, অথচ নির্বাচনের আগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো। আমি মনে করি এর নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি ও ষড়যন্ত্র রয়েছে।”
এদিন ধর্মতলায় পাঁচ দিনের ধর্না কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা দিয়েই সরাসরি আলিপুরে বিদায়ী রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সাক্ষাৎ শেষে তিনি জানান, আনন্দ বোস বুধবার রাজ্য ছাড়ছেন বলেই এই সৌজন্য সাক্ষাৎ। মমতা বলেন, “আমরা একসঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছি, ওঁর সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল।”
অন্যদিকে, নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আরএন রবি বুধবার রাজ্যে আসছেন এবং বৃহস্পতিবার তাঁর শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে রাজভবনে না উঠে বিদায়ী রাজ্যপাল কেন আলিপুরের অতিথিশালায় রয়েছেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠলেও মুখ্যমন্ত্রী একে ওঁর ‘শিষ্টাচার’ বলে উল্লেখ করেছেন। মমতা আরও জানান, শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আনন্দ বোসকে বিমান দেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে তাঁকে দিল্লি যেতে হয়।
যদিও নিজের ইস্তফা প্রসঙ্গে আনন্দ বোস জানিয়েছেন, অনেক চিন্তাভাবনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পদত্যাগের জন্য এটিই সঠিক সময় বলে তিনি মনে করেন। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই ইস্তফা এবং মুখ্যমন্ত্রীর তোলা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

