বিবেচনা ছাড়াই মোদী সরকারের তুঘলকি সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে হাহাকার তৈরি করেছে বলে তোপ দাগলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দেশের মানুষকে বারবার লাইনে দাঁড় করিয়ে চরম দুর্ভোগে ফেলার অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকারকে পরিসংখ্যান দিয়ে তুলোধনা করল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং নেতা তন্ময় ঘোষ মোদী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপকে ‘দূরদর্শিতাহীন’ ও ‘অপরিকল্পিত’ বলে আক্রমণ শানান। নোটবন্দি থেকে শুরু করে বর্তমানের রান্নার গ্যাসের সংকট— প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়েছে যে, গত ১২ বছরে মোদী সরকারের আমলে দেশবাসীকে চারবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। ২০১৬ সালে নোটবন্দির জেরে সাধারণ মানুষকে নিজের উপার্জিত অর্থের জন্য ব্যাংক ও এটিএমের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এরপর ২০২০ সালে করোনাকালে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার এবং অপরিকল্পিত লকডাউনের ফলে পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুমিছিল দেশ দেখেছে।
বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, এসআইআরের খসড়া তালিকায় নাম বাদ পড়া এবং নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়মের গেরোয় প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটার বাদের খাতায় চলে গেছেন। নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে গর্ভবতী মহিলা, বৃদ্ধ ও অসুস্থদেরও লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়েছে। এর পাশাপাশি এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষকে ফের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে। ইসরায়েল সফর থেকে শুরু করে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি— সব ক্ষেত্রেই মোদী সরকার আগাম আঁচ করতে ব্যর্থ হয়েছে। মানুষের স্বার্থে বিকল্প ভাবনা চিন্তা না করে একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

