লেটেস্ট নিউজ

বিশ্বমঞ্চে এবার যোগীরাজ্যের হোলি, উত্তরপ্রদেশকে আন্তর্জাতিক কালচারাল ডেস্টিনেশন বানানোর মেগা প্ল্যান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

লখনউ: এবার উত্তরপ্রদেশের হোলিকে বিশ্ব দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর যোগী সরকার। উত্তরপ্রদেশকে একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল কালচারাল ডেস্টিনেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে হোলিকে ‘গ্লোবাল পিলগ্রিম ফেস্টিভ্যাল’ হিসেবে তুলে ধরার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এর ফলে আবহাওয়া, ধর্ম, সংস্কৃতি এবং পর্যটন—সবই একই সুতোয় গাঁথা হবে।

ফাল্গুন মাস আসতেই উত্তর ভারতের বাতাসে এক মায়াবী পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আমের মুকুল, কোকিলের ডাক আর ঢোলের আওয়াজে জানান দেয় রঙের উৎসবের আগমন। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ড. নীলকণ্ঠ তিওয়ারির মতে, হোলি কেবল রঙের উৎসব নয়, এটি অসত্যের ওপর সত্যের জয় এবং অহংকারের ওপর ভক্তির বিজয়ের প্রতীক। এই আধ্যাত্মিক বার্তাকেই বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চায় সরকার।

সনাতন ঐতিহ্যের প্রতীক হোলিকা দহন বরিষ্ঠ সাংবাদিক সিয়ারাম পাণ্ডে জানান, হোলির প্রথম অধ্যায় শুরু হয় হোলিকা দহনের মাধ্যমে, যা ভক্ত প্রহ্লাদের কাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। ব্রজ এবং কাশীর ধর্মীয় স্থানগুলিতে হোলিকা দহনকে এমনভাবে উপস্থাপিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে বিদেশি পর্যটকরা এর দার্শনিক গুরুত্ব বুঝতে পারেন।

ব্রজ: রাধা-কৃষ্ণের দিব্য প্রেমের উৎসব মথুরা ও বৃন্দাবনের হোলি মানেই রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা। বাঁকে বিহারী মন্দিরের ফুলের হোলি এবং বারসানার লঠমার হোলি এক জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এই বছর এই অনুষ্ঠানগুলিকে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে পর্যটকরা কেবল দৃশ্য উপভোগ না করে এর পেছনের ভাবাবেগও অনুভব করতে পারেন।

কাশী ও অযোধ্যা: আধ্যাত্মিকতা ও সমতার মেলবন্ধন বারাণসীর হোলি জীবনকে উৎসব হিসেবে দেখার ভারতীয় ধারণার বহিঃপ্রকাশ। গঙ্গার ঘাটগুলোতে ফাগুয়া গানের সুরে মেতে ওঠেন সাধু-সন্ত থেকে সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, অযোধ্যায় হোলির অর্থ হলো রামরাজ্যের সেই ধারণা যেখানে সমাজে সাম্য ও প্রেমই শেষ কথা।

অর্থনীতি ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, হোলিকে কেন্দ্র করে ‘হোলি উইথ মিনিং’ থিমের আওতায় ট্রাভেল প্যাকেজ তৈরি করলে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক উন্নতি হবে। এতে স্থানীয় শিল্পী, গাইড এবং হস্তশিল্পীদের আর্থিক লাভ হবে। উত্তরপ্রদেশ সরকার হোলিকে ‘ইন্ডিয়ান কালচারাল এক্সপেরিয়েন্স’ হিসেবে তুলে ধরার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তা রাজ্যের অর্থনীতি ও পর্যটনের ভোল বদলে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের এই প্রাচীন ঐতিহ্য যখন ব্রজে ভক্তি হয়ে ওড়ে, কাশীতে আধ্যাত্মিকতার আবির হয়ে ছড়ায় এবং অযোধ্যায় প্রেমের রঙে মিশে যায়, তখন হোলি আর কেবল একটি উৎসব থাকে না—তা হয়ে ওঠে ভারতীয় সংস্কৃতির আত্মা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *