বৈধ ভোটারদের অধিকার রক্ষা করতেই আমার লড়াই, আদালত থেকে বেরিয়েই হুঙ্কার মোফাক্কেরুলের

মালদার মোথাবাড়ি ব্লকে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন অশান্তির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। শনিবার আদালতের শুনানি শেষে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাইরে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “বৈধ ভোটারদের স্বার্থেই আমার লড়াই জারি থাকবে।” গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানান, কোনো উস্কানিমূলক নয় বরং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার জন্যই তিনি পথে নেমেছিলেন।
এদিন পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় মোফাক্কেরুল সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন। তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী কোনো সঠিক তথ্য ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দিচ্ছেন। ধৃত আইনজীবীর কথায়, “যতক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ভোটাররা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হচ্ছেন, ততক্ষণ এই আন্দোলন থামবে না। এটি সম্পূর্ণ সাধারণ মানুষের লড়াই এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই।” নিজেকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে মানতেও অস্বীকার করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা ও প্রশাসনিক জটিলতাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মালদার মোথাবাড়ি এলাকা। দফায় দফায় বিক্ষোভ, পথ অবরোধ এবং অগ্নিসংযোগের জেরে কালিয়াচক ও সুজাপুর এলাকা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। নজিরবিহীন এই বিক্ষোভে সাতজন জুডিশিয়াল অফিসার দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এ পর্যন্ত মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বাসিন্দা এই আইনজীবী উত্তেজিত জনতাকে প্ররোচিত করেছিলেন এবং জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকেও প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন।
কালিয়াচক থানায় মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তিনটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করার পর আজ তাঁকে আদালতে তোলা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, এই অশান্তির নেপথ্যে বৃহত্তর কোনো ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারী আধিকারিকরা। মালদা জেলাজুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ব্যাপক উত্তেজনা ও প্রশাসনিক তৎপরতা বজায় রয়েছে।
