ব্রিটিশদের মতোই হার মানবে বিজেপি, মুর্শিদাবাদের মাটি থেকে হুঙ্কার ফিরহাদ হাকিমের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে সরাসরি বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রের কড়া সমালোচনা করেন। ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, বাঙালিকে অবজ্ঞা করে কেউ কখনও টিকে থাকতে পারেনি, আর বিজেপিও পারবে না।
বাঙালিকে খোঁচালে ফল ভুগতে হবে
ফিরহাদ হাকিম এদিন ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের তুলনা টানেন। তিনি বলেন, “বাঙালিকে খোঁচাবেন না। ব্রিটিশরা যা পারেনি, বিজেপিও তা করতে পারবে না।” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাসে বাঙালিদের অবদান অনস্বীকার্য। আজ যাঁরা ক্ষমতায় বসে আছেন, বাঙালিদের আত্মত্যাগের ফলেই তাঁরা স্বাধীন দেশে রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছেন। অথচ সেই বাঙালিদেরই এখন নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ধর্ম ও রাজনীতির মিশেল নিয়ে আক্রমণ
গুজরাত থেকে আসা নেতাদের নাম না করে ফিরহাদ বলেন, “আমরা স্বামী বিবেকানন্দ বা রামকৃষ্ণদেবের থেকে ধর্ম শিখব, নাকি বাইরে থেকে আসা তাঁদের থেকে যারা ঘৃণা ছড়ায়?” তিনি সাফ জানান যে, বাংলায় জাত বা ধর্মের নামে বিভেদ চলবে না। রাজনীতি হওয়া উচিত উন্নয়নের নিরিখে, ধর্মের নামে রাজনীতি করা এক ধরনের ‘পাপ’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইতিহাস রক্ষার লড়াই
দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক সৌধ বা স্টেশনের নাম পরিবর্তন করার যে প্রবণতা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তার তীব্র প্রতিবাদ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন, আর অন্যপক্ষ ইতিহাস মুছে ফেলতে চাইছে।” মুর্শিদাবাদে ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সেই ইতিহাস রক্ষারই একটি বড় পদক্ষেপ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উন্নয়ন ও এনআরসি প্রসঙ্গ
এদিন ফিরহাদ হাকিম জিয়াগঞ্জে ৫৬ কোটি টাকার আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল প্রকল্প এবং বেলডাঙায় বৈদ্যুতিক চুল্লির উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা এনআরসি আতঙ্ক নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “কারও নাম বাদ গেলে ভয় পাবেন না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের পাশে আছেন। অশান্তি করে বিজেপির হাত শক্ত করবেন না।”
এদিনের এই কর্মসূচিতে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া, সাংসদ আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং বিধায়ক অপূর্ব সরকারসহ জেলার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

