লেটেস্ট নিউজ

ভবানীপুরে ৬০ হাজার নাম বাদ দিয়েও হারানো যাবে না আমায়, এক ভোটে হলেও জিতবই: মমতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬০ হাজার নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে তীব্র চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত হোলি ও দোল উৎসবের একটি অনুষ্ঠান থেকে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ষড়যন্ত্র করে নাম কাটা হলেও ভবানীপুরের মাটি থেকে তাঁর জয় নিশ্চিত।

‘এরা অমানবিক ও ভীরু’

এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’-এর নামে পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি স্তম্ভিত! এরা অত্যন্ত অমানবিক ও প্রতিহিংসাপরায়ণ কাজ করছে। ভীরু মানুষরাই পিছন থেকে এভাবে লড়াই করে। জেনেশুনে ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। আমার ভবানীপুর ছোট কেন্দ্র, সেখান থেকেই যদি ৬০ হাজার নাম কাটা হয়, তবে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে? তবুও বলছি, আমি জিতবই। এক ভোটে হলেও আমিই জয়ী হব।”

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের তোপ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “কমিশন সম্পূর্ণ বায়াসড হয়ে কাজ করছে। ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার ছক চলছে। বিয়ের পর যারা শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছেন, তাঁদের নামও কেটে দেওয়া হয়েছে। সব নথি দেওয়ার পরেও জেনুইন ভোটারদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। মাইক্রো অবজার্ভাররা বিজেপির অফিসারের মতো আচরণ করছেন।” তিনি আরও দাবি করেন, কোনো ভেরিফিকেশন ছাড়াই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম তালিকা থেকে উধাও করে দেওয়া হয়েছে।

বিজেপিকে কড়া বার্তা

বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ নিয়ে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দিল্লিতে বসে নাম কাটছে আর এখানে রথযাত্রা করছে! এই রথযাত্রাই আপনাদের শেষ যাত্রা হবে। এটা আসলে বিনাশ যাত্রা। আপনারা বিএলও-দের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন, অথচ আসল বদমাইশি করছে বিজেপির লোকজন।” এই অন্যায়ের প্রতিবাদে প্রয়োজনে তিনি ধরনায় বসবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন এবং সাধারণ মানুষের নৈতিক সমর্থন প্রার্থনা করেন।

জৈন মন্দিরের জন্য জমি বরাদ্দ

এদিন রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। জৈন সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির কথা মাথায় রেখে তিনি ঘোষণা করেন, নিউটাউনে বিশ্ব বাংলা গেটের পাশেই জৈন মন্দির তৈরির জন্য জমি দেওয়া হবে। দোল ও হোলি উৎসব যাতে সকলে শান্তিতে পালন করেন, সেই আবেদনও জানান তিনি।

আগামী দিনে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত এই বিতর্ক এবং মুখ্যমন্ত্রীর এই খোলা চ্যালেঞ্জ রাজ্য রাজনীতিতে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *