ভয়মুক্ত বাংলা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে কোচবিহারে প্রধানমন্ত্রীর বিজয় সংকল্প সভা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই রাজকীয় মেজাজে নির্বাচনী প্রচারে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি। উত্তরবঙ্গকে নিজেদের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে ধরে রাখতে রবিবাসরীয় বিকেলে কোচবিহারের ঐতিহাসিক রাসমেলা ময়দান থেকেই প্রচারের আনুষ্ঠানিক সূচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে বিজেপির ‘বিজয় সংকল্প সভা’র প্রথম এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর এই ঝোড়ো সফর কেবল কোচবিহারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আগামী কয়েক দিনে রাজ্যে মোট ৮টি মেগা জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। আগামী ৯ এপ্রিল বীরভূমের সিউড়ি ও আসানসোলে জনসভা করবেন তিনি। এরপর ১১ এপ্রিল কৃষ্ণনগর, জঙ্গিপুর, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে এবং ১২ এপ্রিল শিলিগুড়িতে বিশাল রোড-শো ও জনসভা করার কথা রয়েছে তাঁর। কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে এটি প্রধানমন্ত্রীর চতুর্থ সভা, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বকে আরও একবার স্পষ্টভাবে তুলে ধরল।
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাকে ‘ভয়’-এর সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করে ‘ভরসা’ ও উন্নয়নের যুগে ফিরিয়ে আনা। এক প্রবীণ নেতার মতে, নিরাপত্তা ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিতেই এই বিশাল আয়োজন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে ৩০টিতেই জয়ী হয়েছিল বিজেপি। যদিও লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহারে কিছুটা ধাক্কা খেতে হয়েছিল, তাই সেই হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে এবার মরিয়া মোদী-শাহ জুটি। সম্প্রতি ওই অঞ্চলের জন্য ১,০১০ কোটি টাকার গ্যাস প্রকল্পের শিলান্যাস সেই উন্নয়নেরই ইঙ্গিত দেয়।
আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি আসনে প্রথম দফা এবং ২৯ এপ্রিল ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল ঘোষিত হবে ৪ মে। হাতে সময় অত্যন্ত কম থাকায় ৯ এপ্রিলের পর থেকে প্রচারের ঝাঁঝ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে চলেছে গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রীর এই মেগা সফর এবং ধারাবাহিক জনসভা কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করে নির্বাচনের ফলাফলকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।
