ভয়াবহ গ্যাস সংকটে ধুঁকছে কলকাতা থেকে মুম্বই বন্ধ হতে পারে শহরের নামী দামি রেস্তরাঁ ও পাইস হোটেল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বাণিজ্যিক গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম এবং তীব্র সংকটের জেরে কার্যত দিশেহারা কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হোটেল ও রেস্তরাঁ শিল্প। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ায় এবং কেন্দ্র ‘এসমা’ জারি করায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। উৎপাদন কাটছাঁট হওয়ায় সোমবার থেকে নতুন করে গ্যাসের জোগান মিলছে না। মজুত থাকা সিলিন্ডার দিয়েই আপাতত কাজ চালানো হচ্ছে, তবে ডিস্ট্রিবিউটররা চাহিদার অর্ধেক গ্যাসও দিতে পারছেন না। এই সংকটের জেরে ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ের প্রায় ২০ শতাংশ রেস্তরাঁ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
কলকাতার ডেকার্স লেন থেকে পার্ক স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস থেকে শিয়ালদহ— সর্বত্রই এখন আতঙ্কের ছায়া। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম প্রায় ২০০০ টাকায় ঠেকায় সাধারণ মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের পাইস হোটেলগুলি সবজি ভাত ও ডিম ভাতের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। নামী রেস্তরাঁ চেনের কর্ণধার থেকে শুরু করে ছোট খাবারের দোকানের মালিকরা জানাচ্ছেন, কোভিডের কঠিন সময়েও ব্যবসা সচল রাখা সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান জ্বালানি সংকটে মেনু কাটছাঁট করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্যাসের অভাবে দোকান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, খোলা বাজারে গ্যাসের কালোবাজারি শুরু হয়েছে। আকাশছোঁয়া দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ডালহৌসি বা বালিগঞ্জের ছোট হোটেল মালিকদের মতে, খাবারের দাম বাড়ালে সাধারণ খদ্দেররা বিমুখ হবেন, আবার দাম না বাড়ালে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা আসাম্ভব। একদিকে জোগানে টান এবং অন্যদিকে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি— এই সাঁড়াশি চাপে পড়ে বহু ঐতিহ্যবাহী দোকান এখন অস্তিত্বের সংকটে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তিলোত্তমার রাজপথের পরিচিত খাবারের দোকানগুলি পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

