ভারতীয় অর্থনীতির রকেটের গতিতে বিশ্বজয়! তৃতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার সবাইকে চমকে দিল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় যুক্ত হলো এক নতুন পালক। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে দেশের জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশে, যা গত বছরের একই সময়ের (৭.৪ শতাংশ) তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। শুক্রবার পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রকাশিত এই তথ্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের আর্থিক বুনিয়াদ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।
নতুন পদ্ধতিতে হিসেব এবং অভাবনীয় সাফল্য
এবারের পরিসংখ্যানে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। আগে জিডিপি গণনার ভিত্তি বছর (Base Year) ছিল ২০১১-১২, যা পরিবর্তন করে এখন ২০২২-২৩ করা হয়েছে। নতুন এই মাপকাঠিতে দেখা যাচ্ছে, অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্বে দেশের রিয়েল গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (GVA) বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। অন্যদিকে, নমিনাল জিডিপি বৃদ্ধির হার ছুঁয়েছে ৮.৯ শতাংশ। অর্থনীতির এই তেজ মূলত উৎপাদন এবং পরিষেবা খাতের অভাবনীয় সাফল্যের ফসল।
কোন কোন ক্ষেত্রে এল বড় সাফল্য?
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন ক্ষেত্রে রেকর্ড ১৩.৩ শতাংশ জিভিএ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর পারফরম্যান্স নিচে দেওয়া হলো:
- ট্রেড, হোটেল ও ট্রান্সপোর্ট: এই ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ১১ শতাংশ।
- ফিন্যান্সিয়াল ও রিয়েল এস্টেট: আইটি এবং পেশাদার পরিষেবা মিলিয়ে এই খাতে বৃদ্ধি ঘটেছে ১১.২ শতাংশ।
- পরিষেবা খাতের অবদান: দেশের মোট নমিনাল জিভিএ-তে তৃতীয় বা পরিষেবা খাতের অংশীদারিত্ব দাঁড়িয়েছে ৫২.৯ শতাংশ। এছাড়া দ্বিতীয় বা শিল্প খাতের অবদান ২৪.৮ শতাংশ এবং প্রাথমিক বা কৃষি খাতের অবদান ২২.৩ শতাংশ।
আগামী দিনের পূর্বাভাস
চলতি অর্থবর্ষের (২০২৬) জন্য দ্বিতীয় অগ্রিম অনুমানও প্রকাশ করেছে মন্ত্রক। সেখানে জানানো হয়েছে, পুরো অর্থবর্ষ জুড়ে জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৬ শতাংশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত অর্থবর্ষে (২০২৫) এই হার ছিল ৭.১ শতাংশ। অর্থাৎ, বছর ঘুরতেই ভারতীয় অর্থনীতি আরও বেশি গতিশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং পরিষেবা খাতের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভারত খুব দ্রুতই বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলোর তালিকায় নিজের অবস্থান আরও মজবুত করবে।
অর্থনীতির এই ‘সুপার ফাস্ট’ দৌড় বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, যা আগামী দিনে দেশের শেয়ার বাজার এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

