লেটেস্ট নিউজ

ভারতের আধিপত্য অটুট, ফের মুখ থুবড়ে পড়ল পাকিস্তান: সামনে এল বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক তালিকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক, টিভি৯ ভারতবর্ষ: বর্তমান বিশ্ব যুদ্ধ এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত দেশগুলোকে তাদের নিরাপত্তা কৌশল নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

এই আবহে প্রতিটি দেশই নিজের সামরিক শক্তি বাড়াতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এরই মধ্যে ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার’ (Global Firepower) ২০২৬ সালের সামরিক শক্তির র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে, যেখানে বিশ্বের ১৪৫টি দেশের সামরিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের এই তালিকা কেবল সংখ্যার খেলা নয়। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, পরিবর্তনশীল বিশ্বে কোন দেশ কতটা প্রস্তুতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মাঝে এই র‍্যাঙ্কিং ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী বছরগুলোতে সামরিক শক্তি, রণকৌশল এবং প্রযুক্তিই বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেবে।

কীভাবে নির্ধারিত হয় সামরিক শক্তি?

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের এই র‍্যাঙ্কিং কেবল সৈন্য সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় না। এতে ৬০টিরও বেশি বিষয় বিবেচনা করা হয়, যেমন—সেনা সংখ্যা, অস্ত্রশস্ত্র, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, বাজেট, প্রযুক্তি, লজিস্টিকস এবং ভৌগোলিক অবস্থান। এই সবকিছুর সমন্বয়ে প্রতিটি দেশকে একটি ‘পাওয়ার ইনডেক্স’ (PwrIndx) স্কোর দেওয়া হয়। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের মতে, এই স্কোর যত কম হবে, সেই দেশের সামরিক সক্ষমতা তত বেশি শক্তিশালী বলে গণ্য হবে। ০.০০০০ স্কোরকে নিখুঁত ধরা হলেও বর্তমান ফর্মুলায় তা অর্জন করা আসাম্ভব।

শীর্ষে আমেরিকা, ২০০৫ থেকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী

এই র‍্যাঙ্কিংয়ে আমেরিকা আবারও নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে প্রমাণ করেছে। আমেরিকার পাওয়ার ইনডেক্স স্কোর ০.০৭৪১। ২০০৫ সাল থেকে তারা টানা প্রথম স্থান ধরে রেখেছে। বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা বাজেট, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশ্বজুড়ে সামরিক উপস্থিতি আমেরিকাকে সবার আগে রেখেছে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রাশিয়া ও চিন

আমেরিকার পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়া এবং তৃতীয় স্থানে চিন। দুই দেশের র‍্যাঙ্কিং গত বছরের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ সত্ত্বেও রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা তাকে শীর্ষ তিনে ধরে রেখেছে, অন্যদিকে চিন ক্রমাগত নিজের বাহিনীকে আধুনিকীকরণ করে চলেছে।

শীর্ষ পাঁচে ভারত, এশিয়ার জয়জয়কার

ভারত আবারও শীর্ষ পাঁচের মধ্যে নিজের জায়গা মজবুত করেছে। ০.১৩৪৬ স্কোর নিয়ে ভারত চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ভারতের পরেই পঞ্চম স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শীর্ষ পাঁচের মধ্যে এশিয়ার তিনটি দেশের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এই অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

ফ্রান্স ও জাপানের উত্থান, পিছিয়ে গেল ব্রিটেন

এ বছরের র‍্যাঙ্কিংয়ে কিছু আকর্ষণীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। ফ্রান্স ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে, যা ২০২৫ সালে সপ্তম এবং ২০২৪ সালে ১১তম স্থানে ছিল। জাপানও এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ব্রিটেন অষ্টম স্থানে নেমে গেছে; গত দুই বছরে তারা ষষ্ঠ স্থান থেকে ক্রমশ নিচে নেমেছে। তুরস্ক নবম স্থান ধরে রেখেছে এবং ইতালি দশম স্থানে স্থিতিশীল। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্যে এই দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

পাকিস্তানের অবনমন, জার্মানির প্রত্যাবর্তন

এই রিপোর্টে পাকিস্তানের জন্য সুখবর নেই। ২০২৪ সালে নবম স্থানে থাকা পাকিস্তান ২০২৫ সালে ১২তম এবং ২০২৬ সালে আরও পিছিয়ে ১৪তম স্থানে (স্কোর: ০.২৬২৬) নেমে গেছে। এর বিপরীতে জার্মানি বড়সড় উন্নতি দেখিয়েছে। ২০২৪ সালে ১৯তম স্থানে থাকা জার্মানি ২০২৬ সালে এক লাফে ১২তম স্থানে উঠে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *