ভারতের নেতৃত্বে নতুন ‘ন্যাটো’! ইসরায়েল ও ইউএই-র সঙ্গে জোট; চাপে তুর্কি-সৌদি অক্ষ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ন্যাটো’ (NATO) থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিতেই বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই শূন্যস্থান পূরণে এশিয়ায় নতুন নতুন শক্তিজোট মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে।
পাক-সৌদি-তুর্কি কৌশলগত প্রতিরক্ষা জোট
গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর হামলা হলে অন্য দেশ সেটিকে নিজেদের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করে পাল্টা জবাব দেবে। বর্তমানে এই জোটে তুরস্কও যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
- শক্তি: সৌদির অর্থভাণ্ডার, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র এবং তুরস্কের উন্নত সামরিক প্রযুক্তি— এই তিনের সমন্বয় ভারত ও ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ভারত-ইসরায়েল-ইউএই ‘ত্রিমিত্রি’ জোট
পাক-সৌদি-তুর্কি কৌশলের মোকাবিলায় ভারত তার কূটনৈতিক চাল দ্রুততর করেছে। সম্প্রতি (১৯ জানুয়ারি, ২০২৬) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ভারত সফরকালে দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের চুক্তি (Letter of Intent for strategic defence partnership) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- ইসরায়েলের ভূমিকা: ইসরায়েল ইতিমধ্যেই ভারতকে ড্রোন ও আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করছে। অন্যদিকে, ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-এর পর ইউএই-র সঙ্গেও ইসরায়েলের সম্পর্ক মজবুত হয়েছে।
- পরিকল্পনা: আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইসরায়েল সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সফরেই ভারত-ইউএই-ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘ন্যাটো’ ধাঁচের প্রতিরক্ষা জোটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হতে পারে।
কেন এই জোটের প্রয়োজন?
১. ইয়েমেন সংকট: লোহিত সাগরে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুথি বিদ্রোহীদের হামলার হুমকি বাড়ছে। এখানে ইউএই এবং ইসরায়েলের স্বার্থ অভিন্ন।
২. ভারতের নিরাপত্তা: গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার সময় ইসরায়েল ভারতকে প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছিল। পাকিস্তান যখন তুরস্কের সহায়তা পাচ্ছে, তখন ভারতের জন্য ইসরায়েলের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

