ভারতের বিখ্যাত মন্দির ও লাল কেল্লায় বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 21, 202612:30 pm
রাজধানী দিল্লির বুকে ঘনিয়ে আসছে বড়সড় বিপদের কালো মেঘ। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যে ঘুম উড়েছে নিরাপত্তা আধিকারিকদের। জানা গেছে, পাকিস্তানের কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা এবার ভারতের বিখ্যাত মন্দিরগুলিকে টার্গেট করার নীল নকশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে চাঁদনি চক এলাকার মন্দির এবং ঐতিহাসিক লাল কেল্লা চত্বরে আইইডি (IED) বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চরম নাশকতার ছক কষছে তারা।
বদলা নিতেই কি এই টার্গেট
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের ইসলামাবাদের খাদিজা তুল কুবরা মসজিদে যে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তারই প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে লস্কর জঙ্গিরা। যদিও ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল ইসলামিক স্টেট, তবুও পাকিস্তান সরকার দায় চাপিয়েছিল ভারতের ওপর। সেই ‘প্রতিশোধের আগুন’ থেকেই লস্কর-ই-তইবা ভারতের জনবহুল ধর্মীয় স্থান এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে বড়সড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
হাই অ্যালার্টে দিল্লি ও সংবেদনশীল এলাকা
ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি গোটা ওল্ড দিল্লি এবং সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। লাল কেল্লার আশপাশ এবং চাঁদনি চকের অলিগলিতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সশস্ত্র বাহিনী। পর্যটন কেন্দ্র ও মন্দিরের প্রবেশপথে শুরু হয়েছে কড়া তল্লাশি। প্রতিটি সন্দেহভাজন যানবাহন পরীক্ষা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আতঙ্কের স্মৃতি উসকে দিচ্ছে লাল কেল্লা বিস্ফোরণ
এই সতর্কতা এমন এক সময়ে এল যখন ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর লাল কেল্লার কাছে হওয়া সেই ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের স্মৃতি এখনও টাটকা। ওই হামলায় ১২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং ভস্মীভূত হয়েছিল একাধিক গাড়ি। বর্তমানে পাতিয়ালা হাউস কোর্টে সেই ঘটনার তদন্ত চলছে। এনআইএ-র আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তদন্তের সময়সীমা আরও ৪৫ দিন বাড়িয়েছে এবং সাত অভিযুক্তের জেল হেফাজতের মেয়াদ আগামী ১৩ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই গোয়েন্দা সতর্কবার্তার পর সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় পীঠস্থান— সর্বত্রই এখন কড়া পাহারা। দিল্লির মতো জনবহুল জায়গায় জঙ্গিরা যাতে কোনওভাবেই সফল হতে না পারে, তার জন্য আকাশপথেও ড্রোন নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

