লেটেস্ট নিউজ

ভারতের সঙ্গে তিক্ততা ভুলে বন্ধুত্বের পথে কানাডা? কার্নির দিল্লি সফরের আগে অটোয়ার বড় ঘোষণা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং সম্পর্কের শীতলতা কাটিয়ে এবার ভারতের সঙ্গে নতুন করে বন্ধুত্ব ঝালাই করতে চাইছে কানাডা। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির হাই-প্রোফাইল নয়া দিল্লি সফরের ঠিক আগেই এক অভাবনীয় মোড় নিল অটোয়ার অবস্থান। কানাডার ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, সে দেশে ঘটা সহিংস অপরাধের সঙ্গে ভারতের কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে তারা আর মনে করছে না। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এটি দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর ক্ষেত্রে একটি ‘বিশাল রিসেট’ বা বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

বুধবার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘টরন্টো স্টার’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে কানাডার এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার চাঞ্চল্যকর মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত ও কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের স্তরে বর্তমানে অত্যন্ত জোরালো কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এখন নিশ্চিত যে অতীতে যে ধরনের অপ্রীতিকর কার্যকলাপের আশঙ্কা করা হয়েছিল, তার আর কোনো অস্তিত্ব নেই।”

পুরনো বিবাদ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

স্মর্তব্য যে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় এজেন্টদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন। ট্রুডোর সেই একটি মন্তব্যেই দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ধস নামে। ভারত এই অভিযোগকে বরাবরই “হাস্যকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। উল্টো নয়াদিল্লি দাবি করেছিল যে, কানাডার মাটিতে আশ্রয় নেওয়া ভারত-বিরোধী চরমপন্থীরাই সে দেশের মূল সমস্যা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অটোয়া সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

কেন এই ভোলবদল?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কানাডার এই সুর বদলের পেছনে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর ওয়াশিংটনের রক্ষণশীল বাণিজ্য নীতির কারণে কানাডা এখন বিকল্প বাজারের সন্ধানে মরিয়া। বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে মার্কিন নির্ভরতা কমানোই এখন অটোয়ার প্রধান লক্ষ্য।

কার্নির ভারত সফর এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই ইতিবাচক আবহেই বৃহস্পতিবার ভারত সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি প্রথমে মুম্বই এবং পরে নয়া দিল্লিতে পা রাখবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে। জানা গেছে, শুধুমাত্র পুরনো বিবাদ মেটানোই নয়, বরং জ্বালানি সম্পদ, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রপ্তানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো অত্যাধুনিক ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব গড়তে আগ্রহী কানাডা।

নয় দিনের এই এশিয়া সফরে ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ও জাপান যাবেন কার্নি। তবে নজর থাকবে দিল্লির দিকেই। দীর্ঘ তিক্ততা সরিয়ে রেখে দুই দেশ কি সত্যিই এক নতুন সোনালী অধ্যায়ের সূচনা করতে পারবে? এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *