লেটেস্ট নিউজ

ভারতে খেলবে না বাংলাদেশ! টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা বিসিবি-র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপের আসর বসার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে বড়সড় বিস্ফোরণ। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার আঁচ এবার সরাসরি পড়ল ২২ গজে। বিসিবি (BCB) সাফ জানিয়ে দিল, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে তারা কোনো ম্যাচ খেলবে না। এমনকি আইসিসি-র আল্টিমেটাম সত্ত্বেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

নেপথ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত ও নিরাপত্তার অজুহাত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নবনিযুক্ত সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মধ্যে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আসিফ নজরুল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ভারত এই মুহূর্তে আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ নয়। সরকারের স্পষ্ট অবস্থান হলো, আমরা ভারতে গিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলব না।”

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা আইসিসি-র কাছে বারবার আবেদন করেছিলেন যাতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়। কিন্তু আইসিসি সেই দাবি খারিজ করে দেওয়ায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ঢাকা।

আইসিসি-র কড়া অবস্থান ও বিকল্প দলের ভাবনা

বোর্ডের এই অনড় মনোভাবে ক্ষুব্ধ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। গত ২১ জানুয়ারি এক জরুরি বৈঠকের পর আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে:

  • ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো সংশয় নেই এবং নিরপেক্ষ তদন্তেও কোনো ঝুঁকির প্রমাণ মেলেনি।
  • শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
  • যদি বাংলাদেশ দল ভারতের মাটিতে খেলতে না আসে, তবে টুর্নামেন্টে তাদের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশকে জায়গা দেওয়া হবে।

মুস্তাফিজুর ও আইপিএল বিতর্ক

ক্রিকেটীয় সম্পর্কের এই অবনতির মূলে রয়েছে সাম্প্রতিক আইপিএল ইস্যুও। কেকেআর (KKR) ৯ কোটি টাকায় মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিলেও, বিসিসিআই-এর নির্দেশে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এই ঘটনাকে ‘জাতীয় অপমান’ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিশ্বকাপের সূচি ও গ্রুপ বিন্যাস

২০২৬-এর টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ রয়েছে ‘গ্রুপ-সি’-তে। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি মুম্বইয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাঘেদের ছাড়াই বিশ্বকাপের আসর বসার সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে।

যদিও পাকিস্তান বাংলাদেশের এই অবস্থানকে সমর্থন করছে বলে শোনা যাচ্ছে, তবে হাইব্রিড মডেলে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ পেলেও বাংলাদেশ কেন সম্পূর্ণ টুর্নামেন্ট বর্জনের পথে হাঁটছে, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি-র দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইনের মধ্যে কোনো ‘মিরাকল’ ঘটে কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *