ভারতে নিপাহ আতঙ্ক: ভয়ের কারণ নেই বলছে হু, জানুন উপসর্গ ও সতর্কতা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারতে নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। সম্প্রতি এশিয়ার কিছু দেশ ভারত থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করলেও, হু-এর মতে পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বাংলায় নিপাহর হদিস: আক্রান্তের খোঁজ উত্তর ২৪ পরগনায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় দুই ব্যক্তির শরীরে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। হু জানিয়েছে, এই সংক্রমণ শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট এলাকাতেই সীমাবদ্ধ। আক্রান্তদের কোনো ভ্রমণের ইতিহাস নেই এবং এটি অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণও দেখা দেয়নি।
সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কী বলছে হু?
হু তাদের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, নিপাহ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কোনো জোরালো প্রমাণ মেলেনি। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে এই ভাইরাসের ঝুঁকি বর্তমানে অত্যন্ত কম। তাই ভারত বা অন্য কোনো দেশের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য বা যাতায়াতে কোনো বিধিনিষেধ জারির প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়েছে।
নিপাহ ভাইরাস ঠিক কী?
এটি একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা মূলত প্রাণী (বিশেষ করে বাদুড়) থেকে মানুষের দেহে ছড়ায়। দূষিত খাবার বা আক্রান্ত প্রাণীর সরাসরি সংস্পর্শ থেকে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। এটি জ্বর থেকে শুরু করে মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি করতে সক্ষম।
উপসর্গ ও বিপদ
নিপাহর প্রাথমিক উপসর্গগুলো সাধারণ জ্বরের মতোই— মাথা ব্যথা এবং পেশিতে ব্যথা। তবে সংক্রমণ বাড়লে শ্বাসকষ্ট এবং এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগী জ্ঞান হারিয়ে কোমায় চলে যেতে পারেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই রোগে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের কোনো স্বীকৃত টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে আশার কথা হলো, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরাসহ একাধিক গবেষক দল এর প্রতিষেধক তৈরির কাজ চালাচ্ছেন। আক্রান্তদের মূলত উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

