লেটেস্ট নিউজ

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি: গম, চাল, দুধ থেকে মশলা—কোন কোন পণ্য তালিকার বাইরে? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সম্পাদিত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তিতে ভারতীয় কৃষি খাতকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তিতে গম, চাল, ভুট্টা, সব ধরনের মিলেটস (দানা শস্য), দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, ফল-সবজি, মশলা, পোল্ট্রি, মাংস, তামাক এবং ইথানলের মতো সংবেদনশীল কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে আমেরিকাকে কোনো ট্যারিফ বা শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের মতে, কৃষকদের স্বার্থ, গ্রামীণ জীবিকা এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র কিছু অ-সংবেদনশীল পণ্যে সীমিত ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাতে ভারতীয় কৃষি সুরক্ষিত থাকে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

খাদ্যশস্য ও মিলেটসের পূর্ণ সুরক্ষা

ভারত গম, চাল, ভুট্টা, যব, জোয়ার, রাগি, বাজরা, ওটস এবং অমরান্থের মতো প্রধান শস্য ও মিলেটসকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেছে। এর মধ্যে কোপরা, ময়দা এবং খোসা ছাড়ানো শস্যও অন্তর্ভুক্ত। আমেরিকান আমদানির ফলে এই পণ্যগুলোর কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। এতে কৃষকরা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকবেন এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে দামের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কৃষকদের স্বার্থই আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। ডেইরি প্রোডাক্ট হোক বা শস্য—ভারতীয় কৃষকরা এই চুক্তিতে পূর্ণ সুরক্ষা পেয়েছেন।

দুগ্ধজাত পণ্য ও সবজি আমদানিতে বাধা

তরল দুধ, গুঁড়ো দুধ, কনডেন্সড মিল্ক, ঘি, মাখন, দই ও পনির সহ সমস্ত দুগ্ধজাত পণ্যকে আমেরিকান আমদানি থেকে দূরে রাখা হয়েছে। ডেইরি সেক্টরকে বিদেশি প্রতিযোগিতা থেকে বাঁচাতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মাশরুম, ঢ্যাঁড়শ, ক্যাপসিকাম, কুমড়ো, মটরশুঁটি ও বিনসের মতো টাটকা ও ফ্রোজেন সবজির ওপর আমেরিকাকে কোনো শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়নি। ক্যানড বা প্রক্রিয়াজাত সবজিও এই সুরক্ষার আওতাভুক্ত। ফলে দেশীয় কৃষকদের জীবিকা আমেরিকান আমদানির কারণে হুমকিতে পড়বে না।

ফল ও মশলা খাতেও আমেরিকান প্রবেশাধিকার নেই

কলা, আম, স্ট্রবেরি, লেবু, আঙুরসহ সমস্ত সাইট্রাস ফল এবং শুকনো ফলের (শুকনো আম, নারকেল ইত্যাদি) বাজার আমেরিকার জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। জ্যাম, পাল্প বা ফলের রসের মতো প্রক্রিয়াজাত পণ্যেও সুরক্ষা বজায় রাখা হয়েছে।

গোলমরিচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, ধনে, জিরে, হলুদ, আদা, হিং এবং লঙ্কা গুঁড়োর মতো মশলার ক্ষেত্রেও কোনো ট্যারিফ ছাড় নেই। এছাড়া পোল্ট্রি, মাংস, তামাক ও ইথানল পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।

আমেরিকার কোন পণ্যগুলো সস্তা হবে?

এই চুক্তিতে শুধুমাত্র কিছু অ-সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে আমেরিকাকে সীমিত ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ড্রাই ডিস্টিলার্স গ্রেইনস এবং রেড সোরঘাম (পশুখাদ্য)
  • ট্রি নাটস (বাদাম জাতীয় পণ্য)
  • সয়াবিন তেল
  • ওয়াইন ও স্পিরিটস
  • কিছু নির্দিষ্ট টাটকা ও প্রক্রিয়াজাত ফল

এই পণ্যগুলো ভারতের মূল খাদ্যশস্য বা ডেইরি পণ্যের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে না, ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *